দেশীয় কোম্পানির মধ্যে প্রিমিয়াম আয়ে শীর্ষে ন্যাশনাল লাইফ প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশীয় জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রিমিয়াম আয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৫৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে জমা দেওয়া অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৪টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে দেশি-বিদেশি সব কোম্পানি মিলিয়ে শীর্ষে রয়েছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির আয় ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ন্যাশনাল লাইফের পর দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানি তিনটির প্রিমিয়াম আয় যথাক্রমে ২৬১ কোটি ৪৯ লাখ, ২৫৮ কোটি ২৪ লাখ ও ২১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। মেটলাইফসহ এই পাঁচ কোম্পানি মোট প্রিমিয়ামের ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। মেটলাইফ ও ন্যাশনাল লাইফ একাই সংগ্রহ করেছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ। নতুন পলিসি থেকে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয়েও দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে ন্যাশনাল লাইফ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে মেটলাইফের আয় ১৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ন্যাশনাল লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজিম উদ্দিন বলেন, যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধের পাশাপাশি লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা এরই মধ্যে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রাহকদের এই আস্থার কারণেই আমাদের ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয়ে এরপর রয়েছে সোনালী লাইফের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ, ডেল্টা লাইফের ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ এবং গার্ডিয়ান লাইফের ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৮ কোটি, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩১ কোটি ১৭ লাখ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি ৮০ লাখ এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মেটলাইফ ও ন্যাশনাল লাইফের সম্মিলিত প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ৩৪৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা ৩৪টি কোম্পানির মোট আয়ের ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল মাত্র ২ লাখ টাকা; প্রথম বছরের আয় শূন্য। ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট আয় ১ কোটি ১৩ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফের ১ কোটি ৮৬ লাখ এবং সানফ্লাওয়ার লাইফের ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফের আয় ৩ কোটি ২ লাখ, গোল্ডেন লাইফের ৩ কোটি ১৮ লাখ, যমুনা লাইফের ৪ কোটি ৪৩ লাখ, শান্তা লাইফের ৫ কোটি ১৬ লাখ, প্রগ্রেসিভ লাইফের ৫ কোটি ১৮ লাখ এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশের ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এনআরবি ইসলামী লাইফের আয় ৭ কোটি ৩৩ লাখ এবং প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তবে এক প্রান্তিকের আয় দিয়ে কোনো কোম্পানির ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে বা আর্থিক সংকটে রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ জন্য নতুন পলিসি বিক্রি, নবায়ন প্রিমিয়াম, আগের সময়ের আয় ও বীমা দাবি পরিশোধের তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ২ হাজার ৯১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় ছিল ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৪টি কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় প্রায় ৩৪৬ কোটি টাকা এবং প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা বেশি ছিল। তবে দুই প্রান্তিকে কোম্পানির সংখ্যা আলাদা হওয়ায় এ ব্যবধানকে সরাসরি প্রবৃদ্ধি বলা যাবে না। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: