গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই বেড়েছে প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৩ নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের আয় ও নিট মুনাফা চলতি ২০২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৪.৯৫ শতাংশ এবং নিট মুনাফা বেড়েছে ৩.১৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১১ হাজার ২৮৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৭২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ২ হাজার ৬৩৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২০ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ৫৪ পয়সায়। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৮৬৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৭৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯০৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ টাকা ৭২ পয়সা। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৮৭ পয়সায়। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে গ্রামীণফোণ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ চূড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড রয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২২ টাকা ২৯ পয়সা। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২৫ টাকা ২৮ পয়সা। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪ টাকা ২২ পয়সায়। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৩৬ টাকা ৯৪ পয়সা। এর আগের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল গ্রামীণফোন। এর মধ্যে ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড ছিল। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৪৫ শতাংশ চূড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল গ্রামীণফোন। ওই বছর কোম্পানিটি এর বাইরে ১৩০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। সব মিলিয়ে আলোচ্য অর্থবছরে মোট ২৭৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড পেয়েছিলেন কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা। গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, কোম্পানিটির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্ব সমাপ্ত ২০২২ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফর্মেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)। ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৪৮৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতেই রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫.৮৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১.৬০ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ২.৫৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। ডিএসইতে গতকাল সোমবার (২৩ অক্টোবর) গ্রামীণফোনের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ২৮৬ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল একই ২৮৬ টাকা ৬০ পয়সা। SHARES অর্থনীতি বিষয়: