২৯ খেলাপি গ্রাহককে সময় বেঁধে দিল জনতা ব্যাংক প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ বিশেষ প্রতিনিধি : খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার ২৯ জন গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, বকেয়া অর্থ ও চলমান মামলা নিয়ে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে চলমান মামলাসহ আইনগত কার্যক্রমে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে ব্যাংক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে ‘রিকভারি হেড-টু-হেড’ নামে এ বৈঠক হয়। এতে ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল মজিদ, আব্দুল আওয়াল সরকার ও খন্দকার মামুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপকেরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খেলাপি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলসহ পরিশোধের বিভিন্ন সুযোগের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে মামলা প্রত্যাহার বা আইনগত ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে তাদের জানানো হয়। জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান বলেন, ‘২৯ জন খেলাপি গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে। তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে ভালো পরিমাণ ঋণ আদায় সম্ভব হবে।’ ব্যাংক সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে যাঁরা ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধ পরিকল্পনা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মতভাবে ঋণ আদায়ের সুযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ‘রিকভারি হেড-টু-হেড’ বৈঠকের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া এক গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রায় ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সুবিধা ও সময় বাড়ানোর মাধ্যমে চলমান ছিল। এবার ওই গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বারবার সময় বাড়ানোর পরিবর্তে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঋণ আদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না হলে আইন অনুযায়ী আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিমালায় এককালীন ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপির কারণ ও গ্রাহকের আচরণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কৃষিঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সমস্যায় থাকা গ্রাহকদের সুবিধা দিয়ে মূল ঋণ আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: