আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের এমডি নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি : আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শফিক বিন আবদুল্লাহ নিজ অফিসে অবরুদ্ধ।

ব্যাংকের ৩৩ শাখার ম্যানেজাররা আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) তাকে কারওয়ান বাজারে টিকে ভবনে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অবরুদ্ধ করে রাখে । বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শফিক বিন আবদুল্লাহকে পুনর্নিয়োগ অনুমোদন না দিলেও তিনি নিজের থেকেই অফিস করছিলেন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ শফিক বিন আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির এমডি হিসেবে তার পুনর্নিয়োগ অনুমোদন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত ব্যাংকটিতে একজন নতুন এমডি নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত মাসে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য পুনরায় আবেদন করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। এ অবস্থায় তিনি এখনো অফিস করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুশনে আরা শিখা।

এ বিষয়ে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শফিক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যাংক থেকে পুনরায় আবেদন করা হয়েছে। আপাতত নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ব্যাংকটি থেকে তাকে এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, শফিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে ব্যাংকটিতে এমডি হিসেবে তার পুনর্নিয়োগ আটকে দিয়ে বিশদ তদন্তের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন ব্যাংকটিতে একজন ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগের জন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। শফিক পরিচালনা পর্ষদকে ম্যানেজ করে সে সময় ব্যাংকটিতে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ থেকে পরিত্রাণে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তার পুনর্নিয়োগ অনুমোদনের আবেদন নামঞ্জুর করে গত ১৯ নভেম্বর ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়।