আইডিআরএর ‘লুটের প্রকল্প’, বন্ধে নেই উদ্যোগ প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধি : বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর বিশেষ আগ্রহে চালু করা হয় ইউনিফাইড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (ইউএমপি)। গ্রাহককের পলিসি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে মোবাইল ফোনে এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) পাঠানোর জন্য চালু করা হয় এ প্ল্যাটফর্ম। এসএমএস পাঠানোর এ কাজটি দেওয়া হয় তৃতীয়পক্ষ ‘দুয়ার সার্ভিস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। কোনো প্রকার দরপত্র আহ্বান ছাড়াই অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে এ কাজ দেওয়া হয়। ফলে ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিমা কোম্পানিগুলোর শতকোটি টাকা চলে গেছে দুয়ার সার্ভিস লিমিটেডের পকেটে। তৃতীয়পক্ষ একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে গ্রাহকের সব তথ্য তুলে দেওয়া ও এসএমএস বা মেসেজের মূল্য নিয়ে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো আপত্তি করলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে হুমকি দিয়ে গ্রাহকের তথ্য পাঠাতে ও এসএমএসের মূল্য পরিশোধে বাধ্য করা হয়। ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিমা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ইউএমপি বাতিলের দাবি জানানো হলেও তাতে কর্ণপাত করছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অবশ্য চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বিমা কোম্পানিগুলো ইউএমপি সেবার বিপরীতে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বিমা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কোম্পানিগুলো নিজ উদ্যোগে গ্রাহকদের বিমা পলিসি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে মোবাইল ফোনে যে এসএমএস দেয়, তার জন্য ব্যয় হয় ৪৪ পয়সা। সেখানে ইউএমপির নামে দুয়ার সার্ভিস দিয়ে যে এসএমএস দেওয়া হচ্ছে, তার জন্য কোম্পানিগুলো থেকে আদায় করা হচ্ছে ৩ টাকা ৯০ পয়সা করে। অর্থাৎ কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তারা আরও বলছেন, গ্রাহকদের এসএমএস দেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনোভাবেই বিমা কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে না। এটা বিমা আইন-২০১০ এর লঙ্ঘন। বিমা কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু জঙ্গিবাদের দোহাই দিয়ে একটি সংস্থার ভয় দেখিয়ে এ প্রকল্প চালু করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিমা আইন ২০১০ এর কোথাও লেখা নেই আইডিআরএ এ ধরনের সেবার বিনিময়ে কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিতে পারে। এটা সম্পূর্ণভাবে বিমা আইন ২০১০ এর পরিপন্থি। তাছাড়া আমি এসএমএস করতে পারি ৪৪ পয়সায়। তারা (দুয়ার সার্ভিস) আমার কাছ থেকে দুইভাবে অর্থ নিচ্ছে।- প্রগতি লাইফের সিইও মো. জালালুল আজিম অপরদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউএমপি গ্রাহকবান্ধব। এটা বন্ধ করা হবে না। বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা করার জন্য ইউএমপি বাতিলের দাবি করছে। জানা যায়, বিমা কোম্পানির গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের অর্থ লেনদেনসহ একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তৎকালীন সচিব আসাদুল ইসলামকে চিঠি দেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের কাছেও পাঠানো হয় সেই চিঠির অনুলিপি। SHARES অভিযোগ বিষয়: