ফি নিয়ে জট, লাইসেন্স নবায়ন হয়নি ৬০ বীমা কোম্পানির প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : লাইসেন্স নবায়ন ফি বাড়ানোকে কেন্দ্র করে দেশের ৬০টির বেশি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি। সাত মাস পার হলেও ফি নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বীমা খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) বলছে, ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়নের জন্য তারা গত বছরের নভেম্বরেই আগের হার অনুযায়ী ফি জমা দিয়ে আবেদন করেছিল। তবে পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকা প্রিমিয়ামে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। নতুন হার কার্যকর হওয়ায় কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়। বিআইএর দাবি, আকস্মিকভাবে আড়াই গুণ ফি বাড়ানোয় কোম্পানিগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, ১০০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয়ের একটি কোম্পানিকে আগে যেখানে ১০ লাখ টাকা ফি দিতে হতো, এখন দিতে হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। এ কারণে অধিকাংশ কোম্পানি আগের হারেই লাইসেন্স নবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনার পর প্রায় ২০টি কোম্পানি নতুন হারেই লাইসেন্স নবায়ন করেছে। অন্যদিকে আইডিআরএ বলছে, সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বাজেট না পাওয়ায় সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনায় লাইসেন্স ফি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। বীমা খাতে তদারকি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন ফি কাঠামো কার্যকর করা প্রয়োজন। তবে বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। লাইসেন্স নবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন পলিসি গ্রহণকারী গ্রাহকদের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা এ বিষয়ে জনস্বার্থে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও ফি জমা দেওয়ার পরও লাইসেন্স নবায়ন আটকে রাখা আইনগত প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। দ্রুত জটিলতার সমাধান না হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমী বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রাহকদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুজ্জামান বলেন, লাইসেন্স ফি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান হবে। গ্রাহকদের স্বার্থ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বছরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন হওয়ায় চলমান সময়ে বিক্রি হওয়া পলিসিগুলো নিয়ে গ্রাহকদের আইনি জটিলতায় পড়তে হবে বলে তিনি মনে করেন না। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। অন্যথায় বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: