অশ্রু থেকে আলো- – ডি. এম. এমদাদুল হক প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : রাত যত গভীর হয়, আকাশ তত নক্ষত্রে ভরে ওঠে। মানুষ যত একা হয়, রব তত কাছে এসে দাঁড়ান। যে অশ্রু নিঃশব্দে ঝরে পড়ে সিজদার মাটিতে, মানুষ তাকে দেখে না, কিন্তু আসমান তাকে চিনে রাখে। ফেরেশতারা তার সাক্ষী হয়, আর আরশের ছায়ায় লেখা হয় একটি নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি। কত অপূর্ণতা, কত না-পাওয়া, কত ভাঙা স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে মানুষ একদিন বুঝতে শেখে— প্রতিটি বেদনার অন্তরালে রব লুকিয়ে রেখেছেন এক একটি রহমতের দরজা। যখন চারদিক থেকে আক্রমণ আসে, মিথ্যার তীর এসে বিদ্ধ করে সত্যের বুকে, যখন আপন ছায়াটুকুও সরে যায় দূরে, তখনও একটি দরজা খোলা থাকে— সেই দরজা আকাশের দিকে, সেই দরজা রবের দিকে। আমি দেখেছি, অশ্রু কখনো শুধু জল নয়— এটি হৃদয়ের ভাষা, যা ঠোঁট উচ্চারণ করতে পারে না। এটি এমন এক দোয়া, যার শব্দ নেই, কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা আছে। হয়তো আজ যে চোখ কাঁদছে, কাল সেই চোখেই ফুটবে শুকরিয়ার আলো। হয়তো আজ যে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কাল সেই হৃদয়েই জ্বলে উঠবে ঈমানের প্রদীপ। কারণ রবের নিয়মই এমন— তিনি অশ্রুকে মুক্তো বানান, ক্ষতকে শক্তি বানান, হারিয়ে যাওয়াকে হেদায়েত বানান, আর অন্ধকারকে নূরের পথে রূপান্তরিত করেন। তাই আমি আমার কান্নাকে অভিশাপ মনে করি না, এগুলো তো আমার রবের দিকে যাওয়ার সিঁড়ি। প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি নীরব অশ্রুবিন্দু আমাকে একটু একটু করে কাছে নিয়ে যায় সেই করুণাময়ের, যিনি রহমান, যিনি রহিম। একদিন এই অশ্রুর হিসাব হবে না দুঃখের খাতায়, বরং লেখা হবে নূরের ইতিহাসে। একদিন এই কান্নাগুলোই আলো হয়ে জ্বলে উঠবে পথের প্রদীপে। আর তখন হৃদয় বলবে— “যে অশ্রুকে আমি দুর্বলতা ভেবেছিলাম, সেই অশ্রুই ছিল আমার আলো হয়ে ওঠার শুরু।” SHARES বিচিত্র-সংবাদ বিষয়: