নামসর্বস্ব ২৮ প্রতিষ্ঠানের নামে আইএফআইসির ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি থেকে নামসর্বস্ব ও কাগুজে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব ঋণ অনুমোদনে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লেও সে সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন, আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের নাম উল্লেখ না করেই শত শত কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। কোথাও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়েছে, কোথাও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আবার প্রকল্পের প্রকৃতি ও ঋণের পরিমাণের মধ্যেও অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে এসব ঋণের বড় অংশ একাধিকবার নবায়ন, পুনঃতফসিল ও ঋণসীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে বহাল রাখা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান একসময় আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের বিষয়গুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারও এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তবে ব্যাংকটির মালিকানার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আইএফআইসি ব্যাংকের অনিয়ম জেনেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেয়নি—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখনই কোনো অনিয়মের তথ্য পায়, তখনই ব্যবস্থা নেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই সময় লাগে। অনিয়মের সঙ্গে যাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানারাত ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে বড় ধরনের অনিয়মের অধিকাংশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে ছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, শুধু ঋণগ্রহীতা নয়, দায়িত্বে থাকা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। পরিচালকের নাম ছাড়াই শত শত কোটি টাকার ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে তিনটি কাগুজে হাউজিং ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান ও প্রধান শাখা থেকে ছয়টি হিসাবের মাধ্যমে ৯৪৮ কোটি ২ লাখ টাকা টার্ম লোন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে এসব ঋণ ছাড় করা হয়। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ঋণগ্রহীতারা একটি কিস্তিও পরিশোধ না করায় সুদে-আসলে ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পরিচালকের নাম ছাড়াই অনুমোদন, চার বছরের ঋণ পাঁচ বছরে বিতরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান ও প্রধান শাখা থেকে তিনটি কাগুজে হাউজিং ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের নামে ছয়টি টার্ম লোন হিসেবে ৯৪৮ কোটি ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে এসব ঋণ ছাড় করা হলেও ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত একটি কিস্তিও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সুদে-আসলে ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৭১১তম সভায় সৃষ্টি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অনুকূলে চার বছর মেয়াদি ১৯৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার দুটি ঋণ অনুমোদন করা হয়। তবে ঋণ প্রস্তাবের নির্ধারিত স্থানে কোম্পানির পরিচালকদের নাম উল্লেখ ছিল না। এরপরও পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে। একই সঙ্গে ঋণ ছাড়ের ছয় মাসের মধ্যে বন্ধক বা মর্টগেজ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। একইভাবে রাজ হাউজিং লিমিটেডের ক্ষেত্রে পরিচালকদের নাম উল্লেখ ছাড়াই ৮৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। অনুমোদন নোটে মর্টগেজ বা জামানত সম্পর্কেও কোনো তথ্য ছিল না। পরে একই প্রতিষ্ঠান গুলশান শাখা থেকে পৃথক দুটি হিসাবে আরও ২০০ কোটি ও ৬০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। অন্যদিকে দ্য কুইক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় ৩৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ ছয়টি ঋণই চার বছর মেয়াদে অনুমোদন করলেও সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পাঁচ বছর মেয়াদে ঋণ বিতরণ করে। অর্থাৎ, পর্ষদের অনুমোদনের বাইরে গিয়ে ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। ঋণের আবেদনপত্রে ২৫০টি সুসজ্জিত ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল দেখতে পায়, প্রকল্পের ধরন ও ব্যয়ের সঙ্গে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণের সামঞ্জস্য নেই। একই সঙ্গে অনুমোদন নোটে প্রধান কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট শাখার তদারকির জন্য কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। পরিদর্শন প্রতিবেদনে রাজ হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে কবরস্থানের জমি এবং নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া জমি জামানত হিসেবে দেখানোর অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে পরিদর্শন দল এসব অনিয়মের বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু এরপরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি। অভ্যন্তরীণ তদন্তে সামনে আসে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের চিত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণভাবে বিতর্কিত ঋণ হিসাবগুলো পর্যালোচনা শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর ব্যাংকটির করপোরেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকে দুটি গোপন নথি পাঠায়। নথিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ঋণের হালনাগাদ অবস্থান তুলে ধরা হয়। এসব নথিতে দেখা যায়, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে বিতরণ করা ঋণের মোট স্থিতি ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে শ্রীপুর টাউনশিপ, যার ঋণের স্থিতি ১ হাজার ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নামে শেয়ারবাজারেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এরপর রয়েছে আসাদ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৭৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা), গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ), কুইক রিয়েল এস্টেট (৬৮৫ কোটি ৪২ লাখ), সানস্টার বিজনেস (৬৭৪ কোটি ৫৫ লাখ), ফারইস্ট বিজনেস (৬৭৪ কোটি ৪৯ লাখ), কসমস কমোডিটিজ (৬৭২ কোটি ২০ লাখ), ব্লুমুন ট্রেডিং (৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ), আলফা এন্টারপ্রাইজ (৬৫৫ কোটি ১৪ লাখ) এবং অ্যাক্সিস বিজনেস (৬৪৪ কোটি ২৪ লাখ)। এর বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ (৬০৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা), স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল (৬০৪ কোটি ৭০ লাখ), ভিস্তা ইন্টারন্যাশনাল (৫২১ কোটি ৩ লাখ), অ্যাবসোলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৫০৬ কোটি ৪১ লাখ), সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৯৬ কোটি ৩ লাখ), অলট্রন ট্রেডিং (৪৯৫ কোটি ৬৯ লাখ), নর্থস্টোন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ), টিমবিল্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ), সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস (৪৪২ কোটি ৫১ লাখ), সৃষ্টি রিয়েল এস্টেট (৪১৮ কোটি ২৭ লাখ), ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন (৪১৫ কোটি ৮৩ লাখ), গ্লোবাল এলপিজি (৩৭১ কোটি ২৯ লাখ), এলহাম ফ্যাশন (৩৫৮ কোটি ৯৩ লাখ), রাজ হাউজিং (৩৫৮ কোটি ৩২ লাখ), ব্রাইটস্টার বিজনেস (৩০৫ কোটি ২৩ লাখ), সেন্ট্রাল হাইটস ঢাকা (১৬১ কোটি ৬১ লাখ), নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ (৩০ কোটি টাকা) এবং এলহাম ইন্টারন্যাশনাল (৯ কোটি টাকা)। আইএফআইসি ব্যাংকের করপোরেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অধিকাংশ ঋণের ক্ষেত্রেই একাধিকবার পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে ঋণ নবায়ন, পুনঃতফসিল, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পরিশোধে অগ্রগতি না থাকলেও ঋণ হিসাবগুলো দীর্ঘ সময় সচল ছিল। বর্তমান এমডির সময়েও ঋণসীমা বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ভিস্তা ইন্টারন্যাশনাল ও স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালসহ আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হয়। নথিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছিল না। ব্যবসার ধরন আমদানি-রপ্তানি উল্লেখ করা হলেও সে ধরনের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাক্কলিত নগদ প্রবাহ কম থাকা সত্ত্বেও প্রাক্কলিত নিট মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখানো হয়। আইসিআরআর (ICRR) ছিল প্রান্তিক পর্যায়ে এবং ব্যবসায়িক প্রোফাইলেও অসামঞ্জস্য ছিল। এরপরও তিনটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে ৬৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ জুন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বকালেই ওই তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা আরও ৯৬০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। এমডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তবে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বহাল থাকেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, বিতর্কিত ঋণ অনুমোদন, নবায়ন ও ঋণসীমা বৃদ্ধির সময় তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমডি হওয়ার আগে তিনি উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), হেড অব ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন, চিফ ক্রেডিট অফিসার, চিফ রিস্ক অফিসার এবং চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকে যোগ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ঋণ অনিয়মের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এবং পরবর্তীকালে এমডি হওয়ার পরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা বৃদ্ধির কারণে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। News PhotoCard SHARES অভিযোগ বিষয়: