পলিসি ইস্যুতে অনিয়ম, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের হিসাবে ১৬ কোটির গরমিল প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রিমিয়ামের টাকা গ্রহণ না করেই ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৭৬০টি নৌ-বীমা পলিসি বা কভার নোট ইস্যু করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। এসব পলিসির বিপরীতে ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারিত হলেও কোম্পানির হিসাবে দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাকি ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা প্রধান হিসাব বইয়ে দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের নিরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ার পর আগের কয়েক বছরের আর্থিক বিবরণী সংশোধন বা রিস্টেটমেন্ট করেছে কোম্পানিটি। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোং ঘটনাটিকে ‘আইন ও বিধির বিচ্যুতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের নোট ১.৬(খ) অনুযায়ী, প্রিমিয়ামের টাকা গ্রহণ না করে বীমা পলিসি ইস্যু করা আইডিআরের নিয়মের পরিপন্থী। বীমা আইন, ২০১০-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী, নগদ, চেক বা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বীমা কোম্পানি ঝুঁকি গ্রহণ করতে পারে না। প্রিমিয়াম ছাড়া কভার নোট ইস্যু করলে ১৮(৪) উপধারা অনুযায়ী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যায়। আর টাকা না পেয়েও ‘টাকা পাওয়া গেছে’ উল্লেখ করলে ধারা ১৩০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নিরীক্ষকেরা কোম্পানিটির আইটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাও তুলে ধরেছেন। ডাটা এন্ট্রি বা সিস্টেমে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্রয়মূল্য ছিল ৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এর বাজারমূল্য নেমে আসে ৪২ কোটি ১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ বিনিয়োগের বাজারমূল্য কমেছে ১১ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ২ টাকা ৮৫ পয়সা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ টাকা ৮৯ পয়সায়। অর্থাৎ কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এর পরও ২০২৫ সালের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানির ব্যালান্স শিটে ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ডিপোজিট প্রিমিয়াম হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এর বিপরীতে কোনো পলিসি ইস্যু করা হয়নি। পাশাপাশি বিবিধ দেনাদার হিসেবে ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এর একটি বড় অংশ আদায় হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন নিরীক্ষকেরা। কোম্পানির দাবি, এর ৬০ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে। তবে কালবেলা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের সিএফও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ে জমা হওয়া অর্থ ডিপোজিট প্রিমিয়াম হিসেবে কোম্পানির দায় হিসেবে হিসাবভুক্ত ছিল। কিছু ক্ষেত্রে বিল অব লেডিং বা শিপমেন্ট অ্যাডভাইস না পাওয়ায় কভার নোট পলিসিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আগে কভার নোট ৯ মাসের মধ্যে পলিসিতে রূপান্তরের সুযোগ ছিল। ২০২৫ সালে নতুন সার্কুলারে সময়সীমা ২৪ মাস করা হলে পুরোনো কভার নোটগুলো পুনরায় যাচাই ও রিকনসিলিয়েশন করা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থাকা কভার নোটগুলো পলিসিতে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব অর্থ হারিয়ে যায়নি; কোম্পানির হিসাবেই ছিল। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, প্রায় ১৭ কোটি টাকা বিবিধ দেনাদার হিসেবে রয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ আদায় হয়েছে। দীর্ঘদিন পলিসিতে রূপান্তর না হওয়ার ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। ক্যাশ ফ্লোতে নেতিবাচক ব্যালান্সের বিষয়ে তিনি বলেন, অডিটকালীন প্রায় ৪ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও তা ৩১ ডিসেম্বরের পর হাতে এসেছে। আইডিআরের মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, ২০২২ সালে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে প্রিমিয়াম গ্রহণ না করে পলিসি ইস্যুসহ নিরীক্ষায় উঠে আসা অনিয়মগুলো নিয়ে আইডিআরএ কাজ করছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। News PhotoCard SHARES অভিযোগ বিষয়: