রিজার্ভ বিনিয়োগে ১২ হাজার কোটি টাকা আয় বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় বেড়েছে ৪ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বৈদেশিক বন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগ থেকে সুদ আয় হয়েছে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে আয় হয়েছে আরও ৮৭১ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আর্থিক সম্পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা হয়। গত অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকায় উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি সুদহার থাকায় বৈদেশিক সম্পদে বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে। সাধারণত রিজার্ভের অর্থ সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিদেশি ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখা হয়।

রিজার্ভ বিনিয়োগের বাইরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিয়ে সুদ হিসেবে আয় হয়েছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে ৪৩১ কোটি, লভ্যাংশ থেকে ২০০ কোটি এবং অন্যান্য খাত থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের পুরো সময় নীতিসুদহার ১০ শতাংশে ছিল। ফলে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অর্থ নিতে হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত অর্থবছরের নিট মুনাফার পুরো অর্থ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এবং বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সম্প্রতি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। গ্রস রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।