নিজেদের মর্জিতে অফিস করেন খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসক

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৪

শেখ মাহাবুব আলম খুলনা ব্যুরোঃ খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দেরিতে এসে নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল থেকে চলে যান। অথচ হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডের সরকারি অফিস আদেশ অনুযায়ী বায়োমেট্রিক হাজিরায় সকাল ৮টায় আঙুলের ছাপ ও দুপুর ২.৩০ মিনিটের সময় অর্থাৎ দায়িত্ব পালন শেষে আঙুলের ছাপ প্রদান করে কর্মস্থল ত্যাগ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু নিজেদের খেয়াল খুশিমত অফিস করছেন চিকিৎসকরা। ফলে সেবা নিতে আসা রোগিরা বহির্বিভাগে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও পাচ্ছে না ডাক্তারদের দেখা আবার ।

বৃহস্পতিবার ৯ টা ৩৫ মিনিট। হাসপাতালে প্রচুর রোগীর ভিড়। সে সময়ও আসেনি কোন চিকিৎসক।আউটডোরের চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইন রোগীদের। কেউ অসুস্থ হয়ে বিরক্ত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে শুয়ে, বসে অথবা দাঁড়িয়ে আছে। কখন চিকিৎসক আসবেন এ বিষয়ে রুগিরা হাসপাতালের কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলেও কোন সদুত্তর পাচ্ছে না। খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিদিনের চিত্র এটি। রুগিদের অভিযোগ, সকাল ১১ টার আগে কোন চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে মোট ১৭৪ টি পদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৯ টি পদ সহ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোাট ৮১ টি পদ শুন্য রয়েছে। উপজেলার প্রায় ২ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার আশ্রয়স্থল এই সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট এবং কর্মরত চিকিৎসকদের যথাসময়ে হাসপাতালে না আসার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের। এদিকে গত ২২জুলাই সকাল ৮টার দিকে ইছামতী গ্রামের আব্দুল মান্নান মীর(৬৮) নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে গিয়ে হাটুতে ব্যাথা পান। সকাল অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসার জন্য তেরখাদা উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন এবং সেখানে ভর্তি করেন I সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্তব্যরত ডাক্তার মৈত্রী বিশ্বাস উক্ত রুগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে আসেননি। রুগীর অবস্থা খারাপ দেখে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষক রবিউল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তানিয়া রহমানকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় পোনে ৬টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৈত্রী বিশ্বাস সেবিকাদের কক্ষে এসেই চেচামেচি শুরু করেন। রোগী দেখার জন্য তাকে ফোন করা হলো কেনো ? শুধু তাই নয়, তিনি উক্ত রোগীর বেডে গিয়ে বলেন সাংবাদিক দিয়ে ফোন করালেন কোনো ? আমি কি সাংবাদিকের চাকরি করি ? সাংবাদিকের জন্ম আগে, না ডাক্তারের জন্ম আগে। আরও কথা বলে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে নামকা ওয়াস্তে তারর চাচাকে দেখেন এবং ঔষধ প্রয়োগ করেন। তিনি সন্ধার আগে কি ঔষধ প্রয়োগ করেছেন তা জানেন না। ঔষধ প্রয়োগের পর থেকে আব্দুল মান্নান মীরের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। রাতে ডাঃ মৈত্রী বিশ্বাস ও তার সঙে অন্যদের নিয়ে রোগীদের পাশে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা চালান। গভীর রাতে ডাক্টরেরা রুগীর গার্ডিয়ানদের কে বলেন রোগীর অবস্থা খারাপ। এখান থেকে নিয়ে যান ।রুগীর গার্ডিয়ানরা এত রাতে কোথায় নিবে? এত অসুস্থ রোগীকে কিভাবে নিবে বলেন । কর্তব্যরত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এবং তার চরম অনীহা ও খামখেয়ালীপনায় ভোর রাতে ঐ রুগী টি মারা যান। এভাবেই চলছে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা না জানি কখন এ দূর্ভোগ মুক্তি পাবে তেরখাদা বাসী।