বীমায় বন্দী মানুষের টাকা-স্থায়ী সমাধানই সময়ের দাবি

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬

এম হোসাইন আহমদ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ ৮২ কোম্পানির কাছে গ্রাহকের ৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, সাত প্রতিষ্ঠানেই আটকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি; সম্পদ বিক্রি করে দাবি পরিশোধের উদ্যোগ।

সন্তানের লেখাপড়া, মেয়ের বিয়ে, নিজের চিকিৎসা কিংবা বার্ধক্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে মানুষ বীমা করেন। মাসের আয় থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমা দেন। সংসারে অভাব এলেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন। বিশ্বাস করেন, মেয়াদ শেষে এই অর্থই একদিন বিপদের সময় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।

কিন্তু পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যখন নিজের টাকা ফেরত পাওয়া যায় না, তখন সেই বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় অসহায়তায় পরিণত হয়।

কেউ চিকিৎসার জন্য অর্থের অপেক্ষায় থাকেন। কেউ সন্তানের ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারেন না। কেউ ধার করেন, কেউ জমি বা গয়না বিক্রি করেন। অথচ বীমা কোম্পানির কাছে পড়ে থাকা অর্থটি কোনো অনুদান নয়। এটি তাঁদের নিজের উপার্জন। ভবিষ্যতের জন্য তিল তিল করে গড়ে তোলা সঞ্চয়।

নিজের পাওনা পেতে অনেক গ্রাহককে এক কার্যালয় থেকে আরেক কার্যালয়ে ঘুরতে হয়। কখনো বলা হয়, কাগজে সমস্যা আছে। কখনো অনুমোদন আসেনি। আবার কখনো পরের মাসে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়, কিন্তু অপেক্ষার শেষ হয় না।

এই যন্ত্রণা এখন আর একজন বা দুটি পরিবারের নয়। দেশের হাজার হাজার গ্রাহকের ভবিষ্যৎ বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে আটকে আছে।

বকেয়া প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশের ৮২টি বীমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র সাতটি কোম্পানির কাছেই আটকে আছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বকেয়ার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীভূত।

আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বৃহস্পতিবার মতিঝিলে সংস্থাটির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।

তিনি বলেন, বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রথম কাজ হবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু করা।

 

বিচ্ছিন্ন নয়, কাঠামোগত সংকট

এত বিপুল পরিমাণ দাবি বকেয়া থাকার ঘটনা কোনো একটি কোম্পানির সাময়িক আর্থিক সমস্যার ফল নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া একটি কাঠামোগত সংকট।

একটি বীমা কোম্পানি গ্রাহকের কাছ থেকে যে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে, তার একটি বড় অংশ ভবিষ্যতের দাবি পরিশোধের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করার কথা। একই সঙ্গে মেয়াদপূর্তির দাবি মেটানোর মতো নগদ অর্থের ব্যবস্থাও থাকতে হয়।

কিন্তু অনেক কোম্পানির সম্পদ থাকলেও সময়মতো দাবি পরিশোধ করার মতো নগদ অর্থ নেই। ফলে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে এখন জমি বিক্রি, স্থায়ী আমানত ভাঙানো এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ নগদায়নের কথা ভাবতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, কোম্পানিগুলোর সম্পদ, আয় ও ভবিষ্যৎ দায়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করা হয়নি।

দুর্বল কোম্পানির ব্যয়ই বেশি

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, যে কোম্পানি যত দুর্বল, তার পরিচালন ব্যয় তত বেশি। যেসব কোম্পানি ঠিকমতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, তাদের ব্যয়ও অস্বাভাবিক।

আর্থিক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমিয়ে আনার কথা। কিন্তু কিছু বীমা কোম্পানিতে ঘটেছে তার উল্টো। ব্যবসা কমেছে, দাবি পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, অথচ কার্যালয়, গাড়ি, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খাতে ব্যয় কমেনি।

এই ব্যয়ের অর্থও শেষ পর্যন্ত এসেছে গ্রাহকের দেওয়া প্রিমিয়াম থেকে। যে অর্থ ভবিষ্যতে গ্রাহকের হাতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, তার একটি অংশ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পেছনে ব্যয় হয়েছে।

পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

কমিশনের আড়ালে অর্থ

বীমা খাতের আরেকটি দীর্ঘদিনের সমস্যা অতিরিক্ত কমিশন। ব্যবসা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত সীমার বেশি কমিশন দেওয়ার অভিযোগ বহু পুরোনো।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, অনেক ক্ষেত্রে বেতন, ভাতা বা বিভিন্ন চুক্তির আড়ালে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং কিছু অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত কমিশনে প্রিমিয়ামের বড় অংশ ব্যয় হলে ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের জন্য কোম্পানির হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। এতে ব্যবসা বাড়লেও আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

সম্পদের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন

গ্রাহকের অর্থে কেনা জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পদ সঠিক মূল্যে কেনা হয়েছে কি না, এসব বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় এসেছে কি না এবং কোনো সিদ্ধান্তে পরিচালকদের ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব কোম্পানির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পরিচালকদের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তির অর্থ অনেক সময় কোম্পানির তহবিল থেকেই পরিশোধ করা হয়।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান আইনে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী পরিচালকের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি কীভাবে নীতিগতভাবে সমাধান করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অনিয়ম করেন ব্যক্তি, কিন্তু জরিমানার বোঝা বহন করে কোম্পানি। পরোক্ষভাবে এই দায়ও গিয়ে পড়ে গ্রাহকের ওপর।

জাল সনদের অভিযোগ

বীমা কোম্পানির কয়েকজন প্রধান নির্বাহীর শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ জাল হওয়ার অভিযোগও আইডিআরএর নজরে এসেছে।

একটি বীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর হাতে থাকে বিনিয়োগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দাবি পরিশোধ এবং হাজার হাজার গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তার দায়িত্ব। এমন পদে নিয়োগের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করার কথা।

সেখানে জাল সনদের অভিযোগ ওঠা পুরো নিয়োগ এবং অনুমোদনব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।

তদারকি কোথায় ছিল

৮২টি কোম্পানির কাছে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি এক দিনে বকেয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই দায় জমেছে।

কোনো কোম্পানির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের দাবি পরিশোধের হার কমেছে। কোথাও সম্পদ এমন খাতে আটকে গেছে, যেখান থেকে সময়মতো অর্থ তোলা যাচ্ছে না।

এসব তথ্য কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত তদারকিতে আগেই ধরা পড়ার কথা ছিল।

দুর্বলতার প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সংকট এত বড় হতো না। অতিরিক্ত কমিশন বন্ধ, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ঠেকানো এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বহু গ্রাহকের অপেক্ষা এত দীর্ঘ হতো না।

তদারকি শুধু প্রতিবেদন চাওয়া বা জরিমানা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরে না। প্রয়োজন সময়মতো হস্তক্ষেপ এবং গ্রাহকের অর্থ ঝুঁকিতে পড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

সাত কোম্পানিকে প্রথম অগ্রাধিকার

সবচেয়ে বেশি বকেয়া থাকা সাতটি কোম্পানির দাবি পরিশোধে প্রথম পর্যায়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইডিআরএ।

এসব প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি, স্থায়ী আমানত ভাঙানো, ট্রেজারি বন্ডে থাকা অর্থ ব্যবহার এবং অন্যান্য বিনিয়োগ নগদায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কোনো কোম্পানির আমানত দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে আটকে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তবে সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে নতুন অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। জমি বা অন্য সম্পদ প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রাহকরাই। তাই কোন সম্পদ কী দামে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বিক্রি হচ্ছে, তার কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

পৃথক হিসাবে রাখা হবে অর্থ

প্রতিটি কোম্পানির সম্পদ বিক্রি বা বিনিয়োগ নগদায়ন করে পাওয়া অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।

এক কোম্পানির অর্থ অন্য কোম্পানির দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ সেই কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধেই ব্যয় করা হবে।

পুরো প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষক যুক্ত থাকবেন। সম্পদ বিক্রি থেকে কত টাকা পাওয়া গেল, ব্যাংক হিসাবে কত অর্থ জমা হলো এবং কোন গ্রাহককে কত টাকা দেওয়া হলো, তার যাচাইযোগ্য হিসাব রাখা হবে।

এই অর্থ যেন নতুন বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয় বা অন্য কোনো খাতে সরিয়ে নেওয়া না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে আইডিআরএকে।

আগে দাবি, আগে টাকা

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে আগে জমা পড়া আবেদন আগে নিষ্পত্তির নীতি অনুসরণ করা হবে।

অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে জমা হয়েছে, তিনি আগে অর্থ পাবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ কমবে।

তবে গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্যুদাবি এবং চরম আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের জন্য বিশেষ মানবিক ব্যবস্থাও প্রয়োজন। নিয়মের পাশাপাশি জরুরি দাবির জন্য একটি স্বচ্ছ অগ্রাধিকার তালিকা করা যেতে পারে।

স্বতন্ত্র পলিসি পরিচিতি

গ্রাহক সুরক্ষা জোরদারে মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি বৈধ পলিসির জন্য স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর চালুর পরিকল্পনা করেছে আইডিআরএ।

কোনো গ্রাহক পলিসির বিপরীতে এই পরিচিতি নম্বর না পেলে তিনি যেন প্রিমিয়াম পরিশোধ না করেন, সে বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।

এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভুয়া বা অনুমোদনহীন পলিসি বিক্রি কমানো এবং একজন গ্রাহকের পলিসি ও লেনদেন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

আস্থা ফেরানোই বড় পরীক্ষা

সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া দাবি পরিশোধ বর্তমান সংকট মোকাবিলার জরুরি উপায়। কিন্তু এটিই স্থায়ী সমাধান নয়।

কোম্পানির জমি ও বিনিয়োগ বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতের দাবি পরিশোধের সক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। তাই একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমানো, অতিরিক্ত কমিশন বন্ধ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং কোম্পানিগুলোর আর্থিক পুনর্গঠন প্রয়োজন।

কোনো প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বছরের পর বছর নতুন আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকের অপেক্ষা দীর্ঘ করার সুযোগ নেই।

দাবি পরিশোধের অগ্রগতিও নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। কোন কোম্পানির কত সম্পদ নগদায়ন হলো, কত টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা পড়ল, কতজন গ্রাহক অর্থ পেলেন এবং কত দাবি এখনো বাকি রয়েছে, তা জনসমক্ষে জানানো প্রয়োজন।

কারণ ৭ হাজার কোটি টাকা শুধু একটি বড় অঙ্ক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, বার্ধক্য এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।

নিজের সঞ্চয় ফেরত পাওয়া কোনো গ্রাহকের প্রতি অনুগ্রহ নয়। এটি কোম্পানির আইনগত দায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রের কাছে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার।

এক নজরে বীমার বকেয়া

দেশের বীমা কোম্পানি: ৮২টি

গ্রাহকের মোট বকেয়া দাবি: প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা

সাত কোম্পানির কাছে বকেয়া: প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা

মোট বকেয়ার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সাত প্রতিষ্ঠানে

প্রথম ধাপে এই সাত কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ

অর্থের উৎস: জমি, স্থায়ী আমানত, ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ

দাবি পরিশোধের নীতি: আগে জমা পড়া দাবি আগে নিষ্পত্তি

অর্থ রাখা হবে: প্রতিটি কোম্পানির পৃথক ব্যাংক হিসাবে

তদারকি করবেন: নিয়োজিত নিরীক্ষক ও আইডিআরএ

যেসব সংস্কার প্রস্তাব উঠেছে

মেয়াদপূর্তির পর দাবি পরিশোধে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে গ্রাহককে মুনাফা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া

এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ন্ত্রিত স্থানান্তর ঠেকাতে নীতিমালা করা

প্রধান নির্বাহী নিয়োগের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সনদ কঠোরভাবে যাচাই করা

পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের আগেই আইডিআরএর নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধান নির্বাহী যাচাই করা

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করে শুধু ভার্চুয়ালি পর্ষদ সভায় অংশ নেওয়া পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা

অনিয়মের জরিমানা কোম্পানির তহবিল থেকে নয়, ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে আদায়ের আইনগত ব্যবস্থা করা

প্রতিটি বৈধ পলিসির বিপরীতে গ্রাহককে স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া

প্রতিটি কোম্পানির দাবি পরিশোধের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করা

এম হোসাইন আহমদ
বার্তা সম্পাদক
দৈনিক মুখপাত্র

প্রচার ও প্রকাশনা সচিব
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা