যমুনা লাইফ ও সিইও কামরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে স্বার্থান্বেষী মহল – প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারে এফডি আর না জীবন বীমা..? ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, রবিউল সাজ্জাদ গংদের কর্মকান্ড, কোম্পানির ভূমিকা, বিভিন্ন দপ্তরের তদন্ত, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত নিউজ প্রচার, যমুনা লাইফ তথা বীমা শিল্পের এহেন অবস্থাতে ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম সত্যের সন্ধানে দীর্ঘদিন যাবত অনুসন্ধান করে আজ সম্পুর্ন  তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট উপস্থাপন করছে।

চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারে এফ.ডি.আর এর নামে জীবন বিমা করিয়ে দেয়ার অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত যমুনা লাইফের তৎকালীন চিটাগাং সার্ভিস সেন্টারের ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন এবং তার সহকারী কর্মকর্তা মিসির রায়হান, আতিকুর রহমান ও তাদের উর্ধ্বতন সুপারভাইজার রবিউল ইসলামকে আড়ালে রেখে অপরাধের ঘটনাকে ভিন্নখাতে ঘুরিয়ে দিয়ে সুবিধা নেয়ার জন্যে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার জন্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আবারও সোচ্চার হয়ে যমুনা লাইফ তথা বীমা শিল্প কে কলুষিত করে বীমা পেশাকে সমাজের কাছে অসম্মানজনক ও সাধারণ গ্রাহকদের পলিসি গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলছে, অপরদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বীমার উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে।

যমুনা লাইফ ইনসিওরেন্স ও সিইও কামরুল হাসান খন্দকারকে জড়িয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ  বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে চেষ্টা করছি।
সরেজমিন তদন্তে, অভিযোগের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন ডকুমেন্টস ও তথ্যাদি পেয়ে আমরা বিশ্লেষণ করেছি।

মুল অভিযোগ কি ছিল…. ?
চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারে ঘটিত অপরাধ প্রকাশের প্রথম সূত্রপাত করে যমুনা লাইফের একজন গ্রাহক সোহেল রানা।
তিনি যমুনা লাইফের সিইও কামরুল হাসানের সাথে ফোনে আলাপ ও পরবর্তিতে সরাসরি সাক্ষাত করে চিটাগাং সার্ভিস সেন্টার হতে তাকে ও বিভিন্ন গ্রাহককে এফ.ডি.আর নামে জীবনবীমা করিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
পরবর্তিতে সিইও এর পরামর্শে তিনি যমুনার চেয়ারম্যান বরাবরে ১-৪-২০২২ তারিখে বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন এবং তৎকালিন চিটাগাং সার্ভিস সেন্টার হতে সাজ্জাদ গং কর্তৃক তাকে প্রদত্ত কয়েকটি ভুয়া ডকুমেন্টস প্রমান হিসাবে দাখিল করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরে যমুনা লাইফ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ-
বীমা গ্রাহক সোহেল রানার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যমুনা লাইফ কর্তৃপক্ষ একটা প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপাত্ত নিয়ে অভিযোগকারি সোহেল রানার প্রাথমিক সহযোগিতা নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে। তদন্তে সোহেল রানা নিজের ও কয়েকজন গ্রাহকের লিখিত স্বাক্ষ্যপ্রমান সহ অভিযোগের সত্যতা সহকারে তদন্ত কমিটি ২৫-৫-২০২২ তারিখে রিপোর্ট দাখিল করে।


তদন্ত কমিটি চিটাগাং সার্ভিস সেন্টারের তৎকালিন ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন, তার দুই সহযোগি মিসির রায়হান ও আতিকুর রহমান এবং তাদের সিনিয়র সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম বেশকিছু গ্রাহকদেরকে এফ.ডি.আর এর নামে জীবনবীমা করিয়ে দিয়ে সুকৌশলে কমিশন আকারে অর্থ আত্মসাৎ করে গ্রাহক ও যমুনা লাইফ কোম্পানি উভয়ের সাথে প্রতারণা করেছে মর্মে রিপোর্ট দাখিল করে।
প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় যমুনা লাইফ কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে অভিযুক্ত অপরাধী রবিউল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, মিসির রায়হান ও আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করে তাদেরকে এফ.ডি.আর এর নামে বিমা করিয়ে দিয়ে কমিশন আকারে অর্থ আত্মসাতের দায়ে কোম্পানি হতে বরখাস্ত করে এবং চিটাগাংয়ের স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

গ্রাহক ও কোম্পানি উভয়ের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত ও আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াস্বরূপ চিটাগাং পাঁচলাইশ মডেল থানায় যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্স এর পক্ষে সিইও উল্লেখিত ৪ অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ১৩/৯/২২।

পরের দিনই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুই অন্যতম আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও আতিকুর রহমান গ্রেফতার হয় এবং প্রায় ৩ মাস কারাভোগের পরে বর্তমানে আদলতে বিচারকার্য চলাধীন অবস্থায় জামিনে বের হন। অপর দুই আসামি রবিউল ইসলাম ও মিসির রায়হান গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশ আদলতের আদেশে ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে তদন্ত করেছেন। তদন্তে পুলিশ অভিযুক্ত ৪ আসামী সাজ্জাদ, রায়হান, আতিক ও রবিউল এই প্রতরণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে মর্মে এবং প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে ধারা ৪০৮/৪২০/৩৪ পেনালকোড ১৮৬০ মোতাবেক
আসামিদের প্রকাশ্য আদালতে বিচার করার জন্যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে।

প্রকৃত অপরাধী সাজ্জাদ, রায়হান, আতিক ও রবিউল গং যেভাবে সুকৌশলে ফাঁদ পেতে যমুনা লাইফ ও গ্রাহক উভয়ের সাথেই প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে —-
সাজ্জাদ হোসেন ও মিসির রায়হান একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেই ব্যাংকে বিভিন্ন অনিয়মের কারনে তারা চাকুরিচ্যুত হয়েন বলে জানা যায়। চাকরি হতে বরখাস্তের ঘটনা গোপন রেখেই তারা যমুনা লাইফে মাঠ কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। তরুন, মার্জিত স্বভাব, প্রাক্তন ব্যাংকার ইত্যাদি গুণাবলি দেখে যমুনা লাইফও তাদেরকে সাদরে বীমা কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন এবং চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার এর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেন যমুনা কতৃপক্ষ ।
যেহেতু তারা ব্যাংকে চাকরি করতেন সেহেতু তারা ব্যাংকের বিভিন্ন আমানত স্কীম সম্পর্কে জানতো ও ব্যাংকার হিসাবে সমাজের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মানুষদের সাথে পরিচিত ছিলেনও বটে। এই দুই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই তারা যমুনা লাইফে গ্রাহক ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ পাতেন।
তারা ব্যাংকের এফ.ডি.আর আমানত স্কীমের মত করে গ্রাহকদেরকে মাসিক মুনাফা প্রদান করবে বলে যমুনা লাইফের নাম দিয়ে নিজেরা একটা এফ.ডি.আর স্কীম তৈরি করে এবং সে অনুযায়ী জাল ও ভুয়া এফ.ডি.আর ইনস্ট্রুমেন্ট ও কাগজপত্র তৈরি করে।


চিটাগাংয়ে ব্যাংকার হিসাবে তাদের পুর্বপরিচিতি ও মার্জিত আচরণ দিয়ে তারা গ্রাহকদেরকে যমুনা লাইফে তাদের তৈরি অধিক মুনাফার ভুয়া স্কীম এফ.ডি.আর করার জন্য প্রস্তাব দিতেন।
তাদের প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই না করেই অধিক মুনাফার লোভে অনেকে সাজ্জাদ গংদের প্রতরণার ফাঁদে পা দেন।

প্রতারণার কৌশল সিকুয়েন্স —
✅ সাজ্জাদ গং গ্রাহকদেরকে মাসিক অধিক মুনাফায় এফ.ডি.আর করার প্রস্তাব দেয় এবং তাদেরকে দিয়ে যমুনার জীবন বীমার প্রস্তাবপত্রে শুধুমাত্র স্বাক্ষর করিয়ে নেন। গ্রাহকগন এফডিয়ার ও জীবন বীমা পত্রের পার্থক্য না বুঝেই স্বাক্ষর করেন।
✅ গ্রাহকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা অসম্পূর্ণ প্রস্তাবপত্র সাজ্জাদ গং নিজেরা পুরণ করে যমুনা লাইফে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রত্যাশিত ৩ কিস্তি (০২) পরিকল্প ১৫ বা ২১ বছর মেয়াদের বীমা হিসাবে বীমা করানোর জন্যে বীমা প্রস্তাবপত্র অবলিখনের জন্যে গ্রাহকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভুয়া তৈরি করে কোম্পানিতে জমা করেন।
✅ যমুনা লাইফের অবলিখন শাখা হতে প্রস্তাবপত্রের তথ্যাদি যাচাইয়ের জন্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ফোন কল দেয়া হলে সাজ্জাদ গংদের আগে থেকেই শিখিয়ে দেয়া মিসগাইড অনুযায়ী তারা তাদের তথ্যাদি চিটাগাং অফিস ইনচার্জ বা বীমাকর্মীকে দিয়েছে আর এর চেয়ে বেশিকিছু তারা বলতে পারবে না বলে এড়িয়ে যায়।
✅ সাজ্জাদ গং গ্রাহকদের কাছ থেকে ভুয়া এফ.ডি.আর স্কীমের নামে টাকা নিয়ে যমুনা লাইফে প্রিমিয়াম হিসাবে জমা করেন।
✅ সাজ্জাদ গং তাদের মাধ্যমে দাখিলকৃত প্রস্তাবপত্র বীমা করিয়ে দিয়েই কোম্পানি হতে তৎকালিন শিডিউল মোতাবেক জমাকৃত প্রিমিয়াম হতে ১ম বর্ষ রেগুলার কমিশন, বিভিন্ন ইনসেন্টিভ, টার্গেট বোনাস ইত্যাদি নানা খাতে প্রায় ৮৫% হতে ৯৫% পর্যন্ত টাকা কমিশন হিসাবে যমুনা লাইফ হতে বের করে নেয়।
✅ প্রস্তাবপত্র গৃহীত হওয়ার সাথেসাথেই যমুনা লাইফের অটোমেটেড স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম হতে গ্রাহকদের মোবাইলে প্রিমিয়ামের টাকা গ্রহন, বিমাপত্র নাম্বার, মেয়াদ, পরবর্তী প্রিমিয়াম জমা দেয়ার তারিখ ইত্যাদি উল্লেখ করে SMS প্রেরণ করা হয়।


✅ গ্রাহকগন এফ.ডি.আর পরিবর্তে জীবন বীমার SMS কেন পেল তা তারা সাজ্জাদ গংদের জিজ্ঞাস করলে সিস্টেমের ভুলে এইধরনের SMS তারা পেয়েছে বলে সাজ্জাদ গং সরলমনা গ্রাহকদেরকে ভুল বুঝিয়ে দেয়।
✅ সরলমনা গ্রাহকগন সাজ্জাদ গংদের মিথ্যা ধরতে না পেরে তাদের কথার উপরে বিশ্বাস রেখে যমুনা লাইফের সাথে তাদের কথার সত্যতা যাচাই করেনি।
✅ বীমা ডকুমেন্টস অনুযায়ী FPR ও বীমাদলিল কোম্পানি যথাসময়ে ইস্যু করে গ্রাহকদেরকে হস্তান্তর করার জন্যে প্রথানুযায়ী চিটাগাং অফিস ইনচার্জ সাজ্জাদকে দিয়ে দেয়।
✅ গ্রাহকদের সাথে এফ.ডি.আরের নামে বীমা করিয়ে দিয়ে উচ্চ কমিশন কোম্পানি হতে হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারণা যাতে গ্রাহকগন বুঝতে না পারে সেজন্যে কোম্পানি হতে ইস্যুকৃত FPR ও বীমাদলিল সাজ্জাদ গং কোন গ্রাহককেই হস্তান্তর করেনি।


✅ সাজ্জাদ গং গ্রাহকদেরকে FPR ও বীমাদলিল না দিয়ে তাদের নিজস্ব তৈরি এফ.ডি.আর এর বিপরিতে যমুনার নামে ভুয়া এফ.ডি.আর ইনস্ট্রুমেন্ট বানিয়ে গ্রাহকদেরকে প্রদান করে। অধিক লাভের আশায় অসচেতন গ্রাহকগনও এই জাল বা ভুয়া ডকুমেন্টস যাচাই না করে সাদরে গ্রহন করে।


✅ সাজ্জাদ গং যেহেতু গ্রাহকদেরকে মাসিক মুনাফায় এফডি.আর করিয়েছে সেহেতু তাদের দেয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কয়েক মাস গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে মাসিক মুনাফার টাকা নিজেরা নগদে জমা দিয়েছে।


অসচেতন গ্রাহকগন অধিক লাভ হচ্ছে এই প্ররোচনায় পড়ে তাদের ব্যাংক একাউন্টে যমুনা লাইফ কোম্পানি হতে নয় বরং নগদ ক্যাশ কে বা কারা টাকা দিচ্ছে তাও নজরে আনেননি বা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে যাচাই করেননি।
✅ এভাবে গ্রাহকরা যমুনা লাইফে অনুপস্থিত বা যমুনা লাইফ বিপনন করে না এমন এফ.ডি.আর নিজেরাও সাজ্জাদ গংদের কাছে করেছে এবং অতি উৎসাহী হয়ে নিজেদের আত্মীয়স্বজনদেরও করিয়ে দিয়েছে।
✅ সাজ্জাদ গং গ্রাহকদেরকে বলেছে এফ.ডি.আর করাচ্ছে অন্যদিকে যমুনা লাইফে তারা নিয়মানুযায়ী জীবন বীমাপত্র জমা দিয়ে গ্রাহকদের মেয়াদি বীমা করিয়ে দিয়ে উচ্চহারে কমিশন হাতিয়ে নিয়ে গেছে।
✅ বীমাগ্রাহক সোহেল রানার অভিযোগ ও ২য় বর্ষ প্রিমিয়াম জমা দেয়ার সময় হওয়াতে গ্রাহকদের সাথে কোম্পানির যোগাযোগ শুরু হলেই সাজ্জাদ গংদের সুকৌশলে প্রতারণার বিষয়টি সকলের কাছে ধরা পড়ে।

এই প্রতারণা কর্মে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে কারা.?
চিটাগাং সার্ভিস সেন্টার অফিস ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেনের সাংগঠনিক চেইন সেট-আপে তার দুইজন সহকারী ছিলেন আতিকুর রহমান ও মিসির রায়হান এবং তাদের উর্ধ্বতন দুইজন সুপারভাইজার ছিলেন রবিউল ইসলাম ও কোম্পানির ডি.এম.ডি মোঃ জসিম উদ্দিন।
সাংগঠনিক চেইন সেট-আপের সর্বনিম্ন স্তর এফ.এ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর ডি.এম.ডি পর্যন্ত জমাকৃত প্রিমিয়ামের বিপরিতে ১ম বর্ষ কমিশন ও বিভিন্ন ইনসেন্টিভ মিলিয়ে ৮৫% থেকে ৯৫% পর্যন্ত কমিশন সাজ্জাদ, মিসির রায়হান, আতিক, রবিউল ও ডিএমডি পেয়েছেন।


অর্থাৎ গ্রাহকদেরকে যমুনা লাইফে অনুপস্থিত বীমা পরিকল্প এফ.ডি.আরের নামে বীমা করিয়ে দিয়ে ২১ বছর মেয়াদি বিমার সর্বোচ্চ হারে কমিশন এই সাংগঠনিক চক্রের কর্মী কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন,যা ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
এরা একাধারে গ্রাহক ও যমুনা লাইফ উভয়কেই সুকৌশলে ধোঁকা দিয়ে উচ্চহারে কমিশন হাতিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল সংবাদের ভিত্তি বা উৎস কি..?
যমুনা লাইফ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত সাজ্জাদ গংদের বিরুদ্ধে যখন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে মামলা দায়ের করে তখন তারা নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্যে গ্রাহকদেরকে আবারো মিসগাইড করে
সাজ্জাদ গং গ্রাহকদেরকে বুঝায় যে, তারা সত্যিকারভাবেই যমুনা লাইফে এফ.ডি.আর জমা দিয়েছে কিন্তু যমুনা লাইফের প্রধান কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তা বীমায় রূপান্তর করে টাকা মেরে দিয়েছে। এখন গ্রাহকগন যদি যমুনা থেকে টাকা আদায়ের জন্যে তাদের সাথে একাত্ম না হয় এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করে তাহলে গ্রাহকগন টাকা ফেরত পাবে না বা তারাও টাকা আদায়ে ব্যার্থ হবে।
গ্রাহকগন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় তাদের এই কথা বিশ্বাস করে পুনরায় প্রতারিত হয় এবং সাজ্জাদ গংদের সাথে জোট বেঁধে যমুনার বিরুদ্ধে মাঠে নামে।
এই সুযোগে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে সত্য লুকিয়ে ঘটনার দায় যমুনার সিইও কামরুল হাসান সহ প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা হিসাবে ৯৫ জন গ্রাহকের নাম লিখে যমুনার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ পত্র শুধু এড্রেস চেঞ্জ করে IDRA সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছে।

স্বভাবতই আমাদের জাতীয় স্বভাব অনুযায়ী রাস্তায় রিকশা ড্রাইভার বড় গাড়ির সাথে নিজে থেকে দুর্ঘটনা ঘটিয়েও যেমন সকল দোষ বড় গাড়ির হয় তেমনি সাজ্জাদ গংদের অভিযোগের বিষয়গুলি যাচাই না করে যমুনাকে দোষী ভেবেই সবাই গাঁটবেঁধে যমুনার বিরুদ্ধে নামে।
এখানে কারো আছে নির্বুদ্ধিতা, কারো আছে ঘটনার সত্যি উদঘাটনে বিমা সংক্রান্ত জ্ঞান ও তদন্তে বিচক্ষণতার অভাব, কারো আছে যমুনাকে ফাঁদে ফেলে ভিন্ন সুবিধা নেয়ার অপপ্রয়াস ইত্যাদি, এমনটাই ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম মনে করছেন।
আমাদের তদন্তে আমরা পেয়েছি যে, গণমাধ্যম সহ কোন পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানই ঘটনার সত্যতা উন্মোচন, প্রতারণার কৌশল উদঘাটন বা সঠিক তথ্য যাচাই বা পাওয়ার জন্যে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় নি।
তারা শুধুমাত্র অভিযোগকারিদের একতরফা বক্তব্য বা অন্যের দেয়া বক্তব্য বা তথ্য বা রিপোর্টের ভিত্তি করে তদন্ত করেছে এবং সংবাদ প্রকাশ করেছে। কোনপ্রকার যাচাইবাছাই করার প্রমান ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম  পাননি।

ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম এর অনুসন্ধানে যেসকল সঠিক, সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য উদঘাটিত হয়েছে-
✅ আসল অপরাধী সাজ্জাদ গং ৯৫ জন গ্রাহকের নামে একটা অভিযোগ পত্র দাখিল করে।
✅ অভিযোগ পত্রে অভিযোগের ধরন বক্তব্য ও উল্লেখিত তথ্য কেউই যাচাই করেনি।
✅ অভিযোগপত্র যদি যাচাই করত তাহলে অভিযোগ তদন্তের শুরুতেই তালিকায় ৯৫ জন গ্রাহকের মধ্যে ২০ জন গ্রাহকের নাম পুনরাবৃত্তি বা ভুল দেয়া হয়েছে তা তাদের নজরে আসতো।
✅ মূল অভিযোগ ছিল গ্রাহকদের FDR এর প্রস্তাব যমুনা লাইফ জীবন বিমায় রূপান্তর করেছে। অথচ গ্রাহকগন কোন FDR ফর্মই পুরণ করেনি তারা সকলেই জীবন বীমার প্রস্তাবপত্র কোম্পানিতে জমা করেছেন। তাহলে প্রধান কার্যালয় FDR কে কিভাবে জীবন বীমায় রূপান্তর করল? এছাড়াও যমুনা লাইফে কোন FDR স্কীম নাই।


✅ তথ্য যাচাই না করে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত বা গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে অনেক ভুল বা অসংগতি ছিল।
✅ যমুনা লাইফে কোন এফ.ডি.আর স্কীম নাই, এমন কি যমুনা লাইফ কখনোই এফ.ডি.আর বিপনন করেনি এই তথ্য কেউই দেয়নি।
✅ সাজ্জাদ গং বীমা গ্রাহকদেরকে যমুনা লাইফের বীমা প্রস্তাবপত্র স্বাক্ষর করে বীমা হিসাবেই কোম্পানিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছে কোন এফ.ডি.আর প্রস্তাব দেয়নি এই প্রামানিক সঠিক তথ্য কেউই প্রকাশ করেনি।
✅ গাহকদেরকে কোম্পানি হতে ইস্যুকৃত বীমা দলিলের পরিবর্তে সাজ্জাদ গং নিজেদের তৈরি ভুয়া এফ.ডি.আর ইনস্ট্রুমেন্টস দিয়েছে এমন কি মেয়াদ পুর্তীতে নিজেরা স্বাক্ষর করে এফ.ডি.আর নবায়ণ করে দিয়েছে তা কোন তদন্তকারী পক্ষ বা গণমাধ্যম উল্লেখ করেনি বরং সাজ্জাদ গংদের অপকর্মের এই বড় প্রমান সবাই এড়িয়ে গেছে বা লুকিয়ে রেখেছে।
✅ সাজ্জাদ গংদের দেয়া মুনাফা প্রদানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা নিজেরা নগদ ক্যাশ গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে মুনাফার টাকা জমা দিয়েছে, জালিয়াতির এই প্রামাণিক তথ্য বা ডকুমেন্টস থাকার পরেও কোন তদন্তকারী পক্ষ বা গণমাধ্যম এই তথ্য বা ডকুমেন্টস প্রকাশ করেনি। বরং তা লুকিয়ে রেখে সকল দোষ যমুনার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছে।
✅ যমুনার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে পুনরায় কোম্পানি হতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যে এবং সাজ্জাদ গংদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদেরকে অপরাধ হতে বাঁচানোর জন্যে গ্রাহকগনও বারবার বোকামি ও অসচেতনার পরিচয় দিয়ে আসল তথ্য গোপন ও তাদেরকে দেয়া সাজ্জাদ গংদের জাল ডকুমেন্টস জালিয়াতির প্রমান হিসাবে কাউকে প্রদান করেনি।
✅ অত্যন্ত সুকৌশলে গ্রাহকদেরকে এফ.ডি.আর বলে কোম্পানিতে বীমা হিসাবে প্রস্তাবপত্র জমা করে বীমা করিয়ে দিয়ে প্রকৃত আর্থিক লাভবান বা কমিশন আকারে যমুনা হতে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করা বীমা কর্মী-কর্মকর্তাদের চেইন সেট-আপ অনুযায়ী FA থেকে DMD পর্যন্ত প্রায় ৮৫% হতে ৯৫ % পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা যে আসলেই সাজ্জাদ গং ভোগ করেছে, সিইও কামরুল বা প্রধান কার্যালয়ের অন্যকোন কর্মকর্তা নয় এই সঠিক প্রামানিক তথ্য কোন তদন্তকারি পক্ষ বা গনমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।
✅ কোন প্রক্রিয়ায় যমুনা লাইফে বিমা হয়, কোন প্রক্রিয়ায় মাঠ থেকে প্রস্তাবপত্র অফিসে দাখিল হয়, কোন প্রক্রিয়ায় বীমা করানোর পরে কমিশন কাদেরকে পরিশোধ করা হয় তার প্রক্রিয়াগত পদ্ধতি কোন তদন্তেই উল্লেখ ছিলনা।
✅ ” চিলে কান নিয়ে গেছে ” এই ধরনের দৃষ্টি দিয়েই প্রায় সকল পক্ষই তদন্ত ও গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে কেউ সত্য উদঘাটন বা প্রকাশে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়নি।
✅ যমুনা লাইফ কর্তৃপক্ষ সাজ্জাদ গংদের কাছ থেকে জালিয়াতির টাকা উদ্ধারের প্রচেষ্টায় মামলা করেছে, আসামীরা কেউ জেল খেটেছে, কেউ এখনো পলাতক রয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে সাজ্জাদ গংরা জালিয়াতি করেছে রিপোর্ট দিয়েছে এই তথ্যগুলি সবাই এড়িয়ে গেছে বা লুকিয়ে রেখেছে।
✅ টাকা উদ্ধারে যমুনা লাইফের বিভিন্ন পদক্ষেপ কেউ কখনোই প্রকাশ করেনি বরং যমুনাকে নিয়ে বিভিন্ন মহল অপপ্রচারেই ব্যাস্ত ছিল।
✅ আদালতে বিচারাধীন একটা বিষয়ে সঠিক তথ্য নির্ভর না হয়ে কোন মন্তব্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ না করার প্রতি কারোরই সচেতনতা নজরে আসেনি।
ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ টিম যমুনা লাইফের সিইও কামরুল হাসান, চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মী কর্মকর্তা, ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন গ্রাহকদের সাথে আলাপ করেছি, চিটাগাং সহ যমুনার প্রধান কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ডকুমেন্টস সমুহ চেক করেছি, এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করে সঠিক ও সত্য ঘটনা এবং প্রকৃত অপরাধী কারা তা অনুসন্ধান করে উদঘাটন করার চেষ্টা করেছি।
আমাদের অনুসন্ধানে পেয়েছি — একটা মহল প্রকৃত অপরাধী সাজ্জাদ গংদের আড়াল করে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, একটা মহল যমুনা ও সিইও কামরুলের বিরুদ্ধে প্রমান ছাড়াই অপপ্রচার করছে, কিছু স্বার্থান্বেষী পক্ষ সত্য গোপন করে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে, গ্রাহকগন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় তাদের কাছে সংরক্ষিত তথ্য ও জাল ডকুমেন্টস গোপন করে ভিন্নপথে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তথ্য রয়েছে।
এতে বিমাশিল্পের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, সাধারণ মানুষ বীমাবিমুখ হচ্ছে। সমাজে বিমা নিয়ে বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আমরা চেষ্টা করেছি সত্য উদঘাটন করে তা প্রকাশ করতে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক যাতে সঠিক প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত পায় এবং প্রকৃত অপরাধী ও এই ঘটনা থেকে যারা আর্থিক সুবিধা পেয়েছে, যারা কমিশন আকারে টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে।
আশা করছি যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা ঘটনার গভিরে প্রবেশ করে বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিবেন ও প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবেন।

সর্বশেষ কোম্পানির তদন্ত রিপোর্টটিতেও সাজ্জাদ গংদের প্রতারণার পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

ব্যাংক  বীমা অর্থ নিউজ টিম সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ আপনাদের পাশেই আছে এবং থাকবে।