রাষ্ট্রীয় ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকে নতুন নীতিমালায় এমডি নিয়োগ, সরাসরি নিয়োগ দেবে না সরকার প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় সরকার আর সরাসরি এমডি নিয়োগ দেবে না। বরং সরকার প্রার্থী মনোনয়ন দেবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি (এনওসি) গ্রহণের পর চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৬ জুলাই ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন/নিয়োগ/পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)সহ বিশেষায়িত ছয়টি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর এমডি সরকারই নিয়োগ দেবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলির দায়িত্ব সরকারের কাছেই থাকবে। নতুন নীতিমালায় শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির পরিবর্তে দক্ষতা, নেতৃত্ব, কর্মসম্পাদন, পেশাগত যোগ্যতা এবং শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়, করপোরেট শাখা, নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা অথবা ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৪৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে এবং নিয়োগের চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। ডিএমডি ও জিএম পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর)-এ ৪০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১৫, চাকরির অভিজ্ঞতায় ১৫, চাকরির রেকর্ডে ১০, ব্যাংকিং পেশাগত পরীক্ষায় ৫ এবং সাক্ষাৎকারে ১০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, অর্থ পাচার কিংবা সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে তা পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিবেচিত হবে। এমডি মনোনয়নের জন্য সাত সদস্যের কমিটির সভাপতি থাকবেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে ডিএমডি ও জিএম পদোন্নতি কমিটির প্রধান থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। কমিটি প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকার শেষে সুপারিশ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অভিন্ন মানদণ্ড নিশ্চিত হবে। News PhotoCard SHARES অর্থ নিউজ বিষয়: