আইএমএফের শর্ত দেশের অর্থনীতির জন্য উপযোগী নয় : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণচুক্তির আওতায় দেওয়া কিছু শর্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘উপযোগী নয়’। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই আইএমএফের সব শর্ত মেনে চলা সম্ভব নয়।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ‘ˆবশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পথরেখা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে অধিকাংশ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নীতিগত মিল রয়েছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন,”শুরুতেই যদি তাদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় (অ্যালাইন) না হয়, তাহলে এগোনো সম্ভব নয়। তারা আমাদের উন্নয়ন অংশীদার। নীতি ও ইশতেহারের ক্ষেত্রে আমরা অনেকাংশেই সমন্নিত অবস্থানে আছি।”
তবে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইএমএফের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কারণ তারা যেসব শর্ত দিচ্ছে, তার কিছু আমাদের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য সুইটেবল (উপযোগী) না।”
আইএমএফের শর্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটি নির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। তাই অন্যদের সব পরামর্শ হুবহু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।””বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থার সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সরকার এমন কোনো নীতিগত পরিবর্তন করবে না, যা নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের প্রত্যাশার বাইরে চলে যায়|”
এ সময় জাতীয় রাজস্ববোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে নীতি ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ছিল না।

তার ভাষায়, “এনবিআরের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আগের সরকার যে বিভাজনের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটি ছিল অসম্পূর্ণ। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো সংস্কার হয়নি।”তিনি বলেন, “অসম্পূর্ণ সংস্কার রেখে গেলে তা আরও জটিলতা ˆতরি করে। তাই প্রথমে সেটিকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, এরপর কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।”এনবিআর সংস্কারে আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার ইঙ্গিতও দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ট্যাক্স নীতি প্রণয়ন করবেন যারা, তাদের অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা, বিভিন্ন খাতের চাহিদা ও সমস্যার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। শুধু আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে নীতি নির্ধারণ করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়।”তিনি আরও বলেন, “যারা করনীতি নির্ধারণ করবেন, তাদের সুপারিশ সরাসরি অর্থমন্ত্রীর কাছে আসবে। এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রাখতে চাই না।”