তিন মাসে না বদলালে অবসায়ন, সময় পেল ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবসায়নের ঝুঁকিতে থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শেষবারের মতো আরও তিন মাস সময় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোও অবসায়নের আওতায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং ও প্রাইম ফাইন্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৫৯ থেকে ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে। চার প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত লোকসান ২ হাজার ১১১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও সময় চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করেছিল। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে শর্তসাপেক্ষে তাদের আরও তিন মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠির খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়, কেন এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে না।

পরে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও প্রিমিয়ার লিজিং।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিআইএফসি, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রিমিয়ার লিজিংকেও অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়। ফলে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিআইএফসির খেলাপি ঋণের হার ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ৪৮০ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের খেলাপি ঋণ ৯৮৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা।

জিএসপি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রাইম ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫৩৪ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ, খেলাপি ঋণ আদায় করে খেলাপির হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ধরনের তারল্য সহায়তা ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে আমানত সংগ্রহ ও নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এই চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো শিথিলতা নেই। তাদের বক্তব্য যুক্তিসংগত হওয়ায় কিছু সময় দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”