বীমা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বদেশ ইসলামী লাইফকে আইডিআরএর শোকজ, ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাবের নির্দেশ প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬ স্টাফ রিপোর্টারঃ বীমা আইন, ২০১০-এর একাধিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। গত ৩ আগস্ট জারি করা নোটিশে কোম্পানিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিআরএর রিপোর্ট, রিটার্ন ও অডিট শাখা থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি আইডিআরএর অনুমোদন ছাড়াই বীমা পলিসি বাজারজাত ও বিক্রি করেছে। এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেয়নি এবং ২০২৩ সালের পর থেকে কোনো অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন (দায় মূল্যায়ন) প্রতিবেদনও দাখিল করেনি, যা বীমা আইন, ২০১০-এর বিভিন্ন বিধানের পরিপন্থী। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী আইডিআরএতে জমা দেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও স্বদেশ ইসলামী লাইফ তা প্রতিপালন করেনি। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন বীমা পলিসি বিক্রির বিষয়টিও আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইডিআরএ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে অথবা প্রদত্ত ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হলে বীমা আইন, ২০১০ এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুযায়ী কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইডিআরএর এক সভায় স্বদেশ ইসলামী লাইফকে বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা চলতি মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া কোম্পানির পেইড-আপ মূলধনের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থ পুনঃস্থাপনের জন্য আইডিআরএ একাধিকবার তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্রগুলোর দাবি, কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও বর্তমানে দুর্বল। বীমা গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটি সংকটে রয়েছে এবং মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত নবায়ন প্রিমিয়ামের অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। News PhotoCard SHARES অর্থ নিউজ বিষয়: