সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ৪০ ব্যাংকের শাখায় অনিয়ম প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন পরিদর্শনে। পরিচয় গোপন করে ক্রেতা সেজে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে অন্তত ৪০টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম, সেবা দিতে অনীহা ও অপেশাদার আচরণের প্রমাণ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেবট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের (ডিএমডি) অন্তত ১০টি দল দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। পরিচয় গোপন রেখে সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে অনেক শাখায় কর্মকর্তারা সরাসরি জানান, সেখানে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয় না। কোথাও শাখাপ্রধানও একই কথা বলেন। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক যোগ্য গ্রাহককে অযৌক্তিক কারণে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন গ্রহণ এবং সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার চারটি শাখা পরিদর্শনের সময় তাঁর সামনেই দুই গ্রাহক সঞ্চয়পত্র কিনতে এসে ফিরে যান। একজনকে বলা হয়, সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় না। আরেকজনকে অন্য ব্যাংকের শাখায় যেতে বলা হয়। অথচ কোনো শাখায় প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকলেও গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব ব্যাংকের। পরিদর্শনের সময় পুরান ঢাকার ধোলাইখালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি শাখায় সঞ্চয়পত্র কিনতে আসা এক নারী গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশের মিডল্যান্ড ব্যাংকের শাখা থেকেও তাকে একইভাবে ফেরত পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেবট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন বলেন, ১০টি দল পরিচয় গোপন রেখে ৪০টি ব্যাংকের শাখায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির বাস্তব চিত্র যাচাই করেছে। সেখানে নানা ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের শাখায় কোনো দিন সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়নি। অথচ সব তফসিলি ব্যাংকই সঞ্চয়পত্র বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, কোনো শাখায় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আইডি ও পাসওয়ার্ড না থাকলেও গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করতে হবে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্র ইস্যুর ব্যবস্থা করতে হবে। খেয়ালখুশিমতো কোনো গ্রাহককে ফেরানো যাবে না। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা করা হবে। এর আগে ২৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি নিশ্চিত করতে বলে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। মেয়াদ শেষে এসব সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৭৭ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। SHARES অর্থনীতি বিষয়: