আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মীর নাদিয়া নিভিন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২ মার্চ আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. আসলাম আলম পদত্যাগ করার পর থেকে পদটি শূন্য ছিল। এরপর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে বীমা খাতে নানা আলোচনা চলছিল। এ সময় চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগসংক্রান্ত বিধান সংশোধন করে গত ৫ মে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত আইনে বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হলেও অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল রাখা হয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০–এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য বীমা, অর্থায়ন, ব্যাংকিং, বিপণন, পরিসংখ্যান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন বা আইন বিষয়ে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা নির্দিষ্ট কোনো পদে কাজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আইনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। একই ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রয়েছে। নাদিয়া নিভিন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বে রয়েছেন। নাদিয়া নিভিনের জন্ম কুয়েতে। শৈশবের কিছু সময় সেখানে কাটানোর পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যাক্রামেন্টো থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন শুরু করেন ২০০৭ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রোগ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে। বাংলাদেশ সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচিতেও কাজ করেছেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ শুরু করেন নাদিয়া নিভিন। জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের পর নিউইয়র্কে ইউএনডিপির সদর দপ্তরে গ্লোবাল ইলেকশনস টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এ দায়িত্বে তিনি বিভিন্ন দেশে নির্বাচনসংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন, সংসদ, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার ও লিঙ্গসমতা–সংক্রান্ত কর্মসূচিতে কাজ করেন। পরে পাকিস্তানের সাবেক ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় অঞ্চল (ফাটা) ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় নির্বাচন কমিশন, সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন। ২০২০ সালে মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনকালে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, সীমান্তভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মানবাধিকার–সংক্রান্ত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: