যমুনা লাইফের এমডি বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলকে অব্যাহতি প্রকাশিত: ১১:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৫ বিশেষ প্রতিনিধিঃ যমুনা লাইফ ইনসিওরেন্স মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিসি) ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলকে আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নিয়োগ দেয়ার সাড়ে ৫ মাসের মাথায় আজ তিনি তার প্রধান সহযোগী মোঃ ফরিদুল ইসলাম এর মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি, আর্থিক অনিয়ম, পছন্দের লোকদের ব্যবসা ছাড়াই বেতন প্রদান ও নানাবিধ অভিযোগ সহ বিভিন্ন চিঠিপত্র থেকে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”, “আসসালামু আলাইকুম”, “মা-আসসালাম” এই রকম ইসলামী শব্দগুলিকে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছিলেন, এতে ইসলামপ্রিয় কর্মী-কর্মকর্তা ও সাধারণ গ্রাহকগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার দরুন ১৪/০১/২০২৫ ইং মঙ্গলবার চাকরি হারালেন। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট এ কোম্পানিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে তার এই অব্যাহতি দেয়া নিয়ে বোর্ডের পরিচালকদের মন্তব্য করতে রাজি হননি । যমুনা লাইফের চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান তার অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করেন। পত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৫৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তক্রমে আপনাকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়, সেই সাথে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির বৃহত্তর স্বার্থে অদ্য ১৪ জানুয়ারি -২০২৫ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ (চলতি দায়িত্ব) হতে আপনাকে অব্যহতি দেয়া হলো। যমুনা লাইফের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ওই চিঠির অনুলিপি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়েছে এটি নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ । কোম্পানির একটি সূত্রে জানা গেছে, যমুনা লাইফের চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান এর এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াতে কর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে কোম্পানির চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে অসুস্থতা বানিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ড. বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলের মোবাইলে একধিকবার ফোন দেয়া হলেও তার ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তার ইন্স্যুরেন্স ক্যারিয়ার থেকে জানা যায় ১৯৯৮ সালে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এ জয়েন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করে। ২০০০ সালের জুন এ সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করে। ২০০৫ সালের জুন মাসে রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এ ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর যোগদান করেন। পরবর্তীতে মার্চ ২০১৪ চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এ অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করে। মাত্র এক মাস চাকরি করে মার্চ ২০১৪ তে পুনরায় যমুনা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে ৬ বছর ২ মাস সে সময় ৪ কোটি টাকা মুলধন ঘাটতি করেছিলেন যা অদ্যবদি তেমনই রয়ে গেছে। পরবর্তীতে মে-২০২২ থেকে অক্টোবর-২০২৩ পর্যন্ত হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ১ বছর ৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে আইডিআরএ কর্তৃক অপসারিত হয়েছিলেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল কে আইন অনুবিভাগ হতে মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ (পরিচালক আইন) স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠিয়েছেন। যাহাতে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রাপ্ত অনিয়মের বিষয়ে কারণ দর্শানো হয়েছে।পত্রের হুবহু কপি তুলে ধরা হলোঃ উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক কর্তৃপক্ষের জারিকৃত সার্কুলার/নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছে কিনা তা নিরীক্ষা করার জন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এম জেড ইসলাম এন্ড কোং-কে নিয়োগ করা হয়। দাখিলকৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপনি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালীন প্রাপ্ত অনিয়ম নিম্নরূপ: ১. কোম্পানির ২০২২ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি কোয়ালিফাইড ছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটুটরি অডিটর উল্লেখ করেছেন। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সাল পর্যন্ত কোম্পানির বীমা দাবি ছিল ৩,৭৭,৪৫,৭২৫/- (তিন লক্ষ সাতাত্তর হাজার পঁয়তাল্লিশ হাজার সাতশত পঁচিশ) টাকা কিন্তু কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাব মতে ৩৩,৪৬৬ টি দাবির বিপরীতে কোম্পানির বীমা দাবি ছিল ৬৮,৫৬,৭০,৪০৬ (আটষটি কোটি ছাপ্পান্ন লক্ষ সত্তর হাজার চারশত ছয়) টাকা এবং পরবর্তী বছর ৩৭,১১২ টি দাবির বিপরীতে বীমা দাবি ছিল ৭৯,৭০,০৯,৩২০/- (উনআশি কোটি সত্তর লক্ষ নয় হাজার তিনশত বিশ) টাকা। এক্ষেত্রে কোম্পানির উপস্থাপিত তথ্যে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। ২. ২০২২ সালে এফডিআর ২১,২৪,৯৬,০২২/- (একুশ কোটি চব্বিশ লক্ষ ছিয়ানবাই হাজার বাইশ) টাকা থেকে কমে ৬১,৩৮,৯৯৮/- (একষট্টি লক্ষ আটত্রিশ হাজার নয়শত আটানব্বই) টাকা হয়েছে। মোট কমেছে ২০,৬৩,৫৭,০২৪/- (বিশ কোটি তেষট্টি লক্ষ সাতান্ন হাজার চব্বিশ) টাকা। ২০,৬৩,৫৭,০২৪/- টাকা কোথায়, কিভাবে খরচ করা হয়েছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ৩. ২০২৩ সালে এম জেড ইসলাম এন্ড কোং কর্তৃক নিরীক্ষাকালীন কোম্পানি কর্তৃক নিরীক্ষা দলকে ৩৫৩ টি ব্যাংক একাউন্টের মধ্যে ২১৯ টি ব্যাংক একাউন্টের তথ্য প্রদান করা হয়েছে। বাকি ১৩৪ টি একাউন্টের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বছর ভিত্তিক ব্যাংক হিসাব বিবরণী দেখাতে বললে কোম্পানি তা উপস্থাপন করতে পারেনি। এ বিষয়ে কোন তথ্য প্রদান করা হয়নি। উল্লিখিত অনিয়মসমূহ আপনি হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালীন হয়েছে বিধায় আপনার এসব অনিয়মের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এই অবস্থায়, উল্লিখিত অনিয়মসমূহের দরুণ আপনার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা তার জবাব আগামী ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এরকম আরো অনেক দুর্নীতি রয়েছে এই ডক্টর বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল এর নামে। ড. বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলের হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সহ সকল কোম্পানীতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ের অপকর্ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিস্তারিত আসছে …. SHARES অর্থ নিউজ বিষয়: