৬০ বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ঝুলে আছে, বাড়তি ফি নিয়ে টানাপোড়েন প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : নিবন্ধন নবায়ন ফি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের প্রায় ৬০টি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়ন আটকে আছে। এতে বীমা খাতে অনিশ্চয়তা ও ব্যবসায়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) বলছে, বীমা আইন, ২০১০-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো নিবন্ধন নবায়নের আবেদন জমা দিয়েছে এবং ২০১৮ সালের সংশোধিত বিধিমালায় নির্ধারিত হারে ফিও পরিশোধ করেছে। ফলে আইন অনুযায়ী আবেদন ও ফি গ্রহণের পর নিবন্ধন নবায়ন করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধ্যবাধকতা। তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এখনো অধিকাংশ কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রকাশিত এক গেজেটের মাধ্যমে বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে বীমা কোম্পানিগুলো। বিআইএর মতে, নতুন হার কার্যকর হলে ১০০ কোটি টাকা গ্রস প্রিমিয়ামধারী একটি কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি ১০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত হবে। সংগঠনটি এই ফি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, নতুন হার কার্যকরের পর ইতোমধ্যে ৬টি লাইফ ও ১৪টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি বর্ধিত হারে ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নবায়ন করেছে। তবে অধিকাংশ কোম্পানি আগের হারেই লাইসেন্স নবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে আইডিআরএ জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিজিটালাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন এবং বিভিন্ন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংস্থাটি বর্ধিত হারে ফি আদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের নির্দেশনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তবে বিআইএর এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনায় ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়ন ২০১৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, যেহেতু কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই নির্ধারিত হারে ফি জমা দিয়েছে, তাই চলতি বছরের নবায়ন আগের বিধিমালা অনুযায়ী হওয়া উচিত। নতুন হার প্রয়োগ করা হলে তা ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর করা যেতে পারে। লাইসেন্স নবায়ন জটিলতা নিরসনে গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, আইন অনুযায়ী আবেদন ও ফি জমা দেওয়ার পরও নিবন্ধন নবায়ন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিবন্ধন নবায়ন বিলম্বিত হলে নতুন পলিসি ইস্যু, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বীমা খাতে আস্থা ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: