সিনিয়র সচিব রেজাউল গ্রেফতার, অধরা আইডিআর এর আপেল মাহমুদ প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : একই ধরনের অভিযোগ, ভিন্ন পরিণতি—একজন গ্রেফতার, অন্যজনের বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা। সাম্প্রতিক দুইটি পৃথক মামলাকে ঘিরে এমন বৈপরীত্য এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম-কে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রের বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে কোটি কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই তথ্য দেশ-বিদেশের বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় একই ধরনের অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় এখনো গ্রেফতারের বাইরে রয়েছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক সিইও আপেল মাহমুদ। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট, রাজধানীর শাহবাগ থানায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য—যেমন এনআইডি নম্বর, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল নম্বর, বেতন সংক্রান্ত তথ্য—অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। দুইটি মামলার প্রকৃতি ও অভিযোগের ধরনে উল্লেখযোগ্য মিল থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান পার্থক্য প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যেখানে একজন সাবেক সিনিয়র সচিব গ্রেফতার হলেন, সেখানে অন্য মামলার প্রধান আসামি এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন—এমন বাস্তবতা অনেকের কাছে বিস্ময়কর। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলায় গ্রেফতার হবে কি না, তা নির্ভর করে তদন্তের অগ্রগতি, প্রাপ্ত প্রমাণ এবং আদালতের নির্দেশনার ওপর। তবে একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ জনমনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের সংবেদনশীল মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি। ফারইস্টের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে তথ্য নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এখন একটি বড় ইস্যু হওয়ায়, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। তারা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—তাদের পদ বা প্রভাব যাই হোক না কেন। এদিকে এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা থেকে আপেল মাহমুদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি বা অবস্থান জানা যায়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আইনের প্রয়োগে এই ভিন্নতার কারণ কী? তদন্তের গতি কি সমানভাবে এগোচ্ছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাব কাজ করছে? পুরো বিষয়টি এখন জনমতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি বড় পরীক্ষার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে—আইনের শাসন কতটা সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল হোসেন জানান, মামলার আলামত পরীক্ষার জন্য আইটি ফরেনসিক ল্যাবে দেওয়া আছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। তাগিদ পত্রও দেওয়া আছে। শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জমানের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষনিক কিছু বলতে পারেননি। তবে পরে জেনে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আইডিআর এর লাইফ মেম্বার আপেল মাহমুদকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। SHARES অর্থনীতি বিষয়: