ইসলামী ব্যাংক ‘রক্ষায়’ এবার আন্দোলনে নারী আমানতকারীরা প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনে এবার যোগ দিয়েছেন নারী আমানতকারীরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী অংশ নেন। এর আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে মূলত পুরুষ আমানতকারীদের অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আজ সকাল ১০টার দিকে দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন নারীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী আমানতকারীরা জানান, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই ব্যাংকটিকে ‘লুটেরাদের’ হাত থেকে বাঁচাতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী আমানতকারী বলেন, ইসলামী ব্যাংক শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মুসলিম হিসেবে সুদমুক্ত মুনাফার আশায় আমরা এখানে টাকা রাখি। এই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়ব। তাই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে আমরা আন্দোলনে এসেছি। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মুনিরুল মওলার (মূল পাঠে ওমর ফারুক হিসেবে উল্লেখিত) পুনর্বহাল। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ১ জুন (সোমবার) একই দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সেদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সেই ঘটনার পর থেকেই টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশ। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয় অসন্তোষ। এরই মধ্যে গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: