২০২৬-২৭ বাজেটে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদার সুযোগ থাকছে প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবারও অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখছে সরকার। অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ানো এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের অর্থকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক সূত্র। সূত্রগুলো বলছে, নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এবার আগের মতো ঢালাও সুবিধা না দিয়ে কিছু শর্ত আরোপের চিন্তা করছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য বৈধ করতে হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই আয়কর রিটার্নে সম্পদের প্রকৃত মূল্য দেখাতে হবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ডলার সংকট ও তারল্য চাপে থাকা অর্থনীতিতে এ সিদ্ধান্ত বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন এবং কর ফাঁকির সংস্কৃতি উৎসাহিত হয়। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, ‘নৈতিকতার জায়গা থেকে বিষয়টি পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য না হলেও বাস্তবতা বিবেচনায় দেখতে হবে, সুযোগ না দিলে এই বিপুল অপ্রদর্শিত অর্থ কোথায় যাবে।’ তিনি বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে স্থবিরতা কাটবে এবং অর্থনীতির মূল ধারায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুযোগের অভাবে অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। সরকারের এমন উদ্যোগ দেশের অর্থ দেশে রাখতে সহায়ক হতে পারে। এনবিআর সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের আমলে দেশে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে ১০ শতাংশ কর হারে ঢালাও সুযোগ দেওয়ায় এক বছরে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৩৯ ব্যক্তি প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাদা করেন। এ থেকে সরকার ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা সাদা করা হয়। তখন এ সুযোগ নেন ৩২ হাজার ৫৫৮ জন। পরে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বৈধ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ কর হারে এ সুবিধা দেওয়া হলেও পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়মুক্তির বিধান বাতিল করে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, অর্থনীতিতে গতি আনতে সাময়িক সুবিধার বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার, নীতির স্থিতিশীলতা, কর ব্যবস্থার সরলীকরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দিলে তা দুর্নীতি ও কর ফাঁকিকে উৎসাহিত করবে। তিনি আরও বলেন, বারবার এমন সুযোগ দিলে সৎ করদাতা ও নিয়মিত ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: