নতুন নেতৃত্বে চাঙ্গা পুঁজিবাজার: প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন কমিশন

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিনের মন্দা, আস্থাহীনতা আর কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশের শেয়ারবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে বাজারে। টানা ১০ কার্যদিবস ধরে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।

গত বৃহস্পতিবার সরকার এক আদেশে মাসুদ খানকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মো. নাফিজ আল তারিক, নাহিদ মাহতাব ও তানভীর হাবিব রহমান। গতকাল রোববার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নতুন নেতৃত্বের আগমনে গত কয়েক দিন ধরেই বাজারে ইতিবাচক হাওয়া বইছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক টানা ১০ দিন ধরে বাড়ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৯ মে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫২১১ পয়েন্টে, যা গতকাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ এই সময়ে সূচক বেড়েছে ৩০৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। একইভাবে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত ১৯ মে’র ১৪৬৫৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে গতকাল ১৫৩৯৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

বাজারকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে নতুন কমিশনের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, ‘বাজারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত। এখন আর নতুন কোনো প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন। ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, রিয়েল-টাইম তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বন্ধ হয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী জোর দিয়েছেন নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক গতি কমিয়ে দেয়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

অন্যদিকে, ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের হতাশা দূর করবে।

ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান মনে করেন, সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে বাজার আরও শক্তিশালী হবে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শুধু সূচকের সাময়িক উত্থান নয়, তারা চান বাজারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী আস্থা। আর এই আস্থা ফেরাতে করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানসম্মত কোম্পানির শেয়ার নিশ্চিত করাই হবে নতুন বিএসইসি কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।