ব্যাংক খাতে এক বছরে ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধন ঘাটতি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার মধ্যে দেশের ব্যাংক খাত সচল রাখতে ২০২৫ সালে ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময়ে ১১টি ব্যাংককে ১৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তাও (ইএলএ) দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে তারল্য সহায়তার পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালে রেপো অপারেশন, অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস), ইসলামিক ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ) এবং স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট (এসএলএস)সহ বিভিন্ন তারল্য সুবিধার মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে প্রচলিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। মোট সহায়তার ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ দেওয়া হয়েছে রেপোর মাধ্যমে এবং ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এএলএসের মাধ্যমে। এসএলএসের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে পর্যালোচ্য বছরে ব্যাংকগুলো স্থায়ী আমানত সুবিধা (এসডিএফ) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে ৫ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকগুলো ইসলামিক ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ), মুদারাবাহ লিকুইডিটি সাপোর্ট (এমএলএস) এবং স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্টের (এসএলএস) মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে। মোট সহায়তার মধ্যে আইবিএলএফের অংশ ছিল ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এসএলএসের অংশ ছিল ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নিয়মিত তারল্য সুবিধার মাধ্যমে দেওয়া সহায়তার ৯১ দশমিক ৮৯ শতাংশ ব্যবহার করেছে প্রচলিত ব্যাংকগুলো। ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বরং এটি দেশের ব্যাংক খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বছরের পর বছর দুর্বল সুশাসন, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব, খেলাপি ঋণের বিস্তার এবং পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহির অভাব ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে তুলেছে। এর ফলে কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারছে না। বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা প্রমাণ করে, ব্যাংক খাতের একটি অংশ নিজেদের তহবিল ব্যবস্থাপনার দক্ষতার পরিবর্তে ক্রমেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিয়ে থাকে, যা ব্যাংক খাতের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ব্যাংকগুলো প্রয়োজনের সময় এ সহায়তা নেয়, আবার পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা ফেরত দেয়। তবে সামনে এ নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা যায়।