টিআইএনধারীদের ৬২ শতাংশই রিটার্ন জমা দেননি

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়লেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের হার এখনো সন্তোষজনক নয়। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিবন্ধিত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ টিআইএনধারী নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করেননি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে মার্চ পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হলেও অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। ফলে মোট টিআইএনধারীর মাত্র ৩৮ শতাংশ রিটার্ন দাখিল করেছেন।

আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। সে সময় প্রায় ৪৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা বাড়লেও রিটার্ন দাখিলের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবা গ্রহণের প্রয়োজনেই অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু তাদের অনেকের আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকায় কিংবা বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন না। এছাড়া অনলাইন ও অফলাইন প্রক্রিয়াকে অনেকে এখনো জটিল মনে করেন।

শুধু ব্যক্তি করদাতাই নয়, প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও রিটার্ন দাখিলের হার প্রত্যাশার তুলনায় কম। প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৯ হাজার ৬৫৯।

রিটার্ন দাখিলের হার কম হলেও আয়কর আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সংশোধিত ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি রয়ে গেছে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
এ ছাড়া আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতেও আগের অর্থবছরের তুলনায় দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব আদায়ে ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর-অনুগত্য বাড়ানো, রিটার্ন দাখিল সহজ করা এবং বাধ্যতামূলক বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।