হোমল্যান্ড লাইফের সিইও আমজাদ হোসেনসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার: ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে খিলগাঁও থানায় মামলা

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সিইও আমজাদ হোসেনসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি হলেন মামলার ৫ নম্বর আসামি মো. বিল্লাল হোসেন, যিনি কোম্পানিটির মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে এজাহারে উল্লেখ রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের খিলগাঁও থানায় নেওয়া হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় হাছিনা আক্তার নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলা করেন। এজাহারে কোম্পানির সিইও আমজাদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১/২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় রুজু হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদিনী হাছিনা আক্তার দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নোয়াখালীর চাটখিল এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দাবি, তার অধীনস্থ উন্নয়নকর্মীদের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বীমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানির কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।


বাদিনীর অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে কোম্পানির বিভিন্ন গ্রাহকের বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও তাদের প্রাপ্য মেয়াদোত্তর অর্থ ও বীমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়নি। এতে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাদিনী নিজেও হোমল্যান্ড লাইফের একজন গ্রাহক। তার ও তার স্বামীর দুটি পলিসির বিপরীতে মোট ১১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার মাধ্যমে সংগৃহীত অন্যান্য গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে বাদিনীর দাবি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট বিকেলে খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় কয়েকজন ব্যক্তি নিয়ে অভিযুক্তরা উপস্থিত হন। এ সময় বাদিনীর সঙ্গে আলোচনা করে তার নিজের, স্বামীর এবং অন্যান্য গ্রাহকের পাওনা অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তাকে পুনরায় কোম্পানিতে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদিনীর দাবি, তিনি ওই প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় তার ও গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত না দেওয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্তরা তার, তার স্বামী ও তার মাধ্যমে সংগৃহীত গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অভিযোগও এজাহারে করা হয়েছে।
এজাহারে বাদিনী আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের বীমার অর্থ পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন এবং তাকে পুনরায় কোম্পানিতে যোগদানের প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে হোমল্যান্ড লাইফের গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের বিষয়টি ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরেও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কোম্পানিটির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ নিয়ে অভিযোগ ও মামলা হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২২ সালেও হোমল্যান্ড লাইফের কয়েকজন পরিচালককে গ্রাহকের বীমা অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

নতুন এই মামলায় কোম্পানির সিইওসহ দুই কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় হোমল্যান্ড লাইফের গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পাওনা, বীমা দাবি নিষ্পত্তি এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন সামনে এসেছে।

তবে মামলার এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।