ডিএসই কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে হাইকোর্টের রুল প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আবদুল লতিফের চাকরিচ্যুতি নিয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার করা একটি প্রতিনিধিত্ব ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রিট পিটিশনটির শুনানি শেষে সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৫ জুন ডিএসই থেকে দেওয়া চাকরিচ্যুতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আবদুল লতিফ। ডিএসই/এইচআর/টার্মিনেশন/২০২৬/২৪২/৪০২২ নম্বরের ওই চিঠিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, তার পদটি আর প্রয়োজন নেই। রিটে আবদুল লতিফ দাবি করেন, চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে চাকরিচ্যুতির চিঠিটিকে আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা, তাকে স্বপদে পুনর্বহাল এবং চাকরির ধারাবাহিকতা, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, ২৫ জুনের চাকরিচ্যুতির চিঠিটি কেন ‘collateral purpose’-এ এবং আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে কেন ওই চিঠির কোনো আইনগত কার্যকারিতা থাকবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবদুল লতিফকে তার পদে পুনর্বহাল করে চাকরির ধারাবাহিকতা ও জ্যেষ্ঠতা বহাল এবং সব আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলের জবাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে বিএসইসিকে আবদুল লতিফের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের প্রতিনিধিত্ব (Annexure-L) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিনিধিত্বের কপি বা আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে বিএসইসিকে। রিটে বাংলাদেশকে প্রথম বিবাদী করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিবাদী বিএসইসি, যার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্ব দেখানো হয়েছে। তৃতীয় বিবাদী ডিএসই পিএলসি এবং চতুর্থ বিবাদী ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার, এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মিস ফওজিয়া আক্তার। বিবাদীপক্ষের হয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান, ডিএজি মো. আখতার হোসাইন, ডিএজি মো. আবদুল ওয়াহাব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মোহাম্মদ নুরুল আমিন, এএজি মো. গোলাম রায়িব, এএজি মো. ফুয়াদ হাসান এবং এএজি মিস তামান্না সুলতানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রিটকারীকে নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য তাঁকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশ সার্ভিসের জন্য দুই সেট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ সাধারণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রেজিস্টার্ড ডাকযোগেও পাঠানো হবে। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, এখন বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি বিএসইসিকে আবদুল লতিফের ২৮ জুনের প্রতিনিধিত্ব ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে হাইকোর্টের এ আদেশে এখনো চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি এবং আবদুল লতিফকে চূড়ান্তভাবে পুনর্বহালের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। রুলের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। তবে এই পর্যায়ে আবদুল লতিফকে চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেননি হাইকোর্ট। বরং চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের বৈধতা ও পুনর্বহালের দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানতে রুল জারি করা হয়েছে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: