আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে বীমা কোম্পানির এমডিদের অভিনন্দন; বীমা খাতের উন্নয়ন, আস্থা ফেরানোর তাগিদ প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬ নূরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের বীমা খাতে নতুন প্রত্যাশার আবহে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন-কে ঘিরে শুরু হয়েছে অভিনন্দন, সৌজন্য ও নীতিনির্ধারণী আলোচনার নতুন পর্ব। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)—যা দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন—প্রথমে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র পাঠিয়ে চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানায়। আর সেই আনুষ্ঠানিকতার পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আইডিআরএ কার্যালয়ের হলরুমে দেশের সকল লাইফ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডিগণ উপস্থিত হয়ে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বীমা খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা পরিণত হয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভায়, যেখানে দেশের বীমা শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, সংকট, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সভায় অংশ নেওয়া এমডিগণ বীমা খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, দাবি নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করা এবং বাজার সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনেন। এর আগে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক পত্রে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়, দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে তাঁর মতো অভিজ্ঞ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের আগমন খাতটির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওই পত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা, নেতৃত্বগুণ এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থানের প্রশংসা করে বলা হয়—তাঁর নেতৃত্বে দেশের বীমা খাত আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, আধুনিক ও জনবান্ধব রূপ পাবে। আজকের সভায় সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। বিআইএফের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন কোম্পানির এমডিরা চেয়ারম্যানের সামনে বীমা শিল্পের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন এবং খাতটির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান বাড়াতে হলে প্রথমেই সাধারণ গ্রাহকের কাছে এই খাতকে বিশ্বাসযোগ্য ও সহজপ্রাপ্য করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে দাবি নিষ্পত্তির স্বচ্ছতা, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, বীমা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরও ফলপ্রসূ করার বিষয়েও মতামত উঠে আসে। । সভায় চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বীমা শিল্পকে এগিয়ে নিতে সব বীমা কোম্পানির এমডিদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বীমা খাতের উন্নয়ন শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একার পক্ষে সম্ভব নয়; এর জন্য শিল্পের অংশীজনদের সমন্বিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তিনি এমডিদের প্রতি জোর তাগিদ দেন। চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জন, সুশাসন নিশ্চিত করা, অনিয়ম কমানো এবং শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। সভায় বীমা শিল্পের উন্নয়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়—ফিরে পাওয়া আস্থা, ফিরিয়ে আনা শৃঙ্খলা, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, ডিজিটাল রূপান্তর, বাজার সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক-শিল্প অংশীদারিত্ব। অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বীমা খাতকে নতুন উচ্চতায় নিতে হলে এখনই প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। আর এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ’র নতুন নেতৃত্ব এবং কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে ইতিবাচক বোঝাপড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে আইডিআরএ’র যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী স্বাক্ষরিত শুভেচ্ছাপত্রেও নতুন চেয়ারম্যানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর পর আজ ফুলেল শুভেচ্ছা ও দীর্ঘ আলোচনা সভা—এই দুই ধাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এবং দেশের সব লাইফ-ননলাইফ বীমা কোম্পানির এমডিরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তারা নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বীমা শিল্পকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, গ্রাহকবান্ধব ও আস্থাশীল খাতে পরিণত করতে আগ্রহী। এখন নজর থাকবে, এই সৌজন্য ও আলোচনা কত দ্রুত বাস্তব সংস্কার ও কার্যকর অগ্রগতিতে রূপ নেয়। SHARES অর্থনীতি বিষয়: