কমার্স ব্যাংকে আমানত আনতে ৪ কোটি টাকা ‘আপ্যায়ন’ ব্যয় প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে ১০০ কোটি টাকার আমানত আনতে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চার কোটি টাকা ‘আপ্যায়ন’ ব্যয়ের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুজনকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে রোববার বিশেষ পর্ষদ সভা ডেকেছে কমার্স ব্যাংক। কমার্স ব্যাংকের এই অনিয়ম নিয়ে গত জুলাইয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, আমানতের ‘আপ্যায়ন’ খরচ মেটাতে ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তার হিসাবে প্রণোদনা হিসেবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। পরদিন সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৫ আগস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়। কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়দুল হক গণমাধ্যমে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করা হবে। এ জন্য রোববার বিশেষ পর্ষদ সভা ডাকা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে দেলোয়ার হোসেনকে বরখাস্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। দৈনিক সমকালের ৬ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে আমানত আনতে চার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি ব্যাংকের এমডি ওবায়দুল হক নিজে অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেন। এমডির ঘনিষ্ঠ ১৩ কর্মকর্তা বিভিন্ন পরিমাণের আমানত এনেছেন দেখিয়ে তাদের হিসাবে গত ৪ জুন ‘প্রণোদনা’ হিসেবে অর্থ জমা করা হয়। এর আগে ব্যাংকের এমডির পিএস হামিদুর রহমান তাঁদের কাছ থেকে আগাম চেকে সই করিয়ে নেন। হামিদুর রহমানের হিসাবেও সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমানত সংগ্রহ কর্মসূচি ‘উজ্জীবন’-এর নামে কর্মকর্তাদের হিসাবে প্রণোদনা হিসেবে এই টাকা দেওয়া হয়। তবে এ জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ জুন নয়টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং ৭ জুন পাঁচটি চেকের মাধ্যমে ৯৬ লাখ টাকা প্রিন্সিপাল শাখা থেকে তোলা হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস মো. হামিদুর রহমান ও ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেন টাকা উত্তোলন করে বস্তায় ভরে নিয়ে যান। কালো রঙের একটি গাড়িতে করে (ঢাকা-মেট্রো-১১-২০১০) অর্থ নেওয়া হয় উত্তরা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবে। দেলোয়ার হোসেন বলেন, এমডির নির্দেশে তিনি টাকা দুটি ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে এমডির পিএস কাকে টাকা দিয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। এই চার কোটি টাকার বিপরীতে তিনি এক টাকার চাও খাননি বলেও দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনকারী দুই কর্মকর্তার মধ্যে দেলোয়ার হোসেন এর আগে এনআরবিসি ব্যাংকে কর্মরত থাকার সময়ও গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন। আমানত রাখার সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন মুহাম্মদ সোহেল হাসান। বর্তমানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব। তিনি ওই সময় কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: