প্রগ্রেসিভ লাইফকে আবারও টপ ৫-এ নেওয়ার লক্ষ্য—চলমান সংকট নিরসনে চেয়ারম্যানের আশাবাদ

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চলমান সংকট দ্রুত নিরসন করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও দেশের শীর্ষ পাঁচটি জীবনবীমা কোম্পানির কাতারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের দাবি, পলিসির ম্যাচুরিটি ও অন্যান্য পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কোম্পানির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রগ্রেসিভ লাইফকে একটি সুসংগঠিত, আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা।

কোম্পানির প্রায় ১৯৫ কোটি টাকার দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দায় পরিশোধে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কোম্পানির সম্পদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সম্পদ বিক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থের মাধ্যমে বকেয়া দাবি ও গ্রাহকদের পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে যেসব গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের উদ্দেশে চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। পলিসির ম্যাচুরিটি, দাবি ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল যোগ্য গ্রাহকের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হবে। গ্রাহকদের কষ্ট ও দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, আগামী ৩০ আগস্ট স্কাউটস ভবনের হলরুমে একটি বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রায় ৭ কোটি টাকার গ্রাহক দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে গ্রাহকদের পাশে থাকার পাশাপাশি কোম্পানির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।

শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ফেরানোর বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, একটি কোম্পানির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের আস্থা। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হলে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থও সুরক্ষিত হবে।

আইডিআরএর সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ—আইডিআরএর নির্দেশনা ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে কোম্পানি এগিয়ে যাচ্ছে। আইডিআরএর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলমান সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোম্পানির সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।

সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এদিকে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ সাইদুল আমিন বলেন, কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বকেয়া দাবি, ম্যাচুরিটি ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে এবং সামনে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, কোম্পানির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা একযোগে কাজ করছে। আইডিআরএর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানির সম্পদ ও অন্যান্য আর্থিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ সাইদুল আমিন আরও বলেন, প্রগ্রেসিভ লাইফকে আবারও দেশের টপ ৫ জীবনবীমা কোম্পানির মধ্যে নিয়ে আসাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, দাবি পরিশোধে গতি আনা, সেবার মান বৃদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী দুই বছরে কোম্পানিকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ বলেন, “গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই—কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনব। ধাপে ধাপে সব দায় ও গ্রাহকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে প্রগ্রেসিভ লাইফকে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ধৈর্য ধরে কোম্পানির পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী দুই বছর হবে প্রগ্রেসিভ লাইফের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।