স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি দামের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য সরকারি ক্রয়মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর (সংশোধিত ২০১৯) বিধি ১৮ অনুযায়ী আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদ ক্রোক করা না হলে অভিযুক্তরা তা হস্তান্তর বা পাচার করতে পারেন। আদালতের আদেশে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রারদের ক্রোক করা সম্পদ কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিনিময় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের নথি অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে থাকা ২০টি দলিলের সম্পদের সরকারি ক্রয়মূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এসব সম্পদ রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও গুলশান, ময়মনসিংহের ভালুকা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে রয়েছে। এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমির ওপর বাড়ির দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা। কুয়াকাটায় রয়েছে ৬ দশমিক ১৮ একর জমি, যার দলিলমূল্য ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমিও রয়েছে তাঁর নামে। অন্যদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের সরকারি ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এসব সম্পদ গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে অবস্থিত। তাসলিমার নামে থাকা সম্পদের মধ্যে গুলশান ও বাড্ডায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ৮ মার্চ দুটি মামলা ও একই তারিখে আরেকটি মামলা, ২০২২ সালের ১২ আগস্ট একটি, ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল ও ৯ মে দুটি এবং ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আরও একটি মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সর্বশেষ মামলাটিতে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। রিমান্ডে তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশে পাচার করা সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাড়িসহ অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা নিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দুদক। News PhotoCard SHARES অভিযোগ বিষয়: