আস্থা ও সমৃদ্ধির প্রতীক চার্টার্ড লাইফ

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : জীবন অনিশ্চিত। হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর মতো ঘটনা একটি পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাকে মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে। এমন অনিশ্চয়তার সময়ে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জীবনবীমা হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবলম্বন। মানুষের এই প্রয়োজনকে সামনে রেখে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান চার্টার্ড লাইফ।

এক যুগের বেশি সময়ে জীবনবীমার পাশাপাশি সঞ্চয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও গুরুতর রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের বীমা পরিকল্প নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় চার্টার্ড লাইফ। তালিকাভুক্তির পর ব্যবসার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধ ও গ্রাহকসেবায় গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রাহকের আস্থার অন্যতম বড় জায়গা হলো বিপদের সময়ে বীমার অর্থ পাওয়া। চার্টার্ড লাইফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক দাবি পরিশোধের হার ছিল ৯৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। একই বছরে মৃত্যুদাবির ১৬৭টি আবেদনের সবগুলো নিষ্পত্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ বছরে শেয়ারধারীদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে উদ্যোক্তা পরিচালকরা কোনো লভ্যাংশ নেননি।

আর্থিক সক্ষমতার প্রতিফলন পাওয়া যায় ঋণমান মূল্যায়নেও। আলফা ক্রেডিট রেটিংয়ের মূল্যায়নে চার্টার্ড লাইফ দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং পেয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি শুধু মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, কিডনি বিকল হওয়া কিংবা পারকিনসনের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসা ব্যয়ও একটি পরিবারের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করতে পারে। এ বাস্তবতায় চার্টার্ড লাইফ নিয়ে এসেছে ‘চার্টার্ড সুরক্ষা পরিকল্প’। এতে ৪৫টি গুরুতর রোগের ঝুঁকির বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষার সুবিধা রয়েছে।

গ্রাহকের প্রয়োজন ভিন্ন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের পরিসরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতের সঞ্চয়, সন্তানের শিক্ষা, অবসরজীবনের প্রস্তুতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সঞ্চয়ভিত্তিক, মেয়াদি, শিশুদের শিক্ষা সুরক্ষা, পেনশন, স্বাস্থ্য, প্রাতিষ্ঠানিক ও শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন বীমা পরিকল্প।

সেবার পরিসরেও যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি। অনলাইনে কিস্তি পরিশোধ, দাবি নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানা এবং বিভিন্ন গ্রাহকসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমেও কিস্তি পরিশোধ করা যায়।

সুশাসনের ক্ষেত্রেও স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের জাতীয় সুশাসন পুরস্কারে জীবনবীমা শ্রেণিতে পুরস্কৃত হয় চার্টার্ড লাইফ।

জীবনের অনিশ্চয়তা এড়ানো সম্ভব নয়। তবে সঠিক আর্থিক প্রস্তুতি সেই ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে। জীবনবীমা, সঞ্চয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সমন্বয়ে সেই প্রস্তুতির পরিসর আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে চার্টার্ড লাইফ।