ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে ফোর্স সেল

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : মার্জিন ঋণের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন নিয়মে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে তাঁকে মার্জিন কল দিতে হবে। আর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁর শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এটিকে বলা হয় ফোর্স সেল।

মার্জিন ঋণের মাধ্যমে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির শেয়ার যোগ্য হবে, সেই নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংক, নন-লাইফ বীমা ও অন্যান্য খাতের কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) রেশিও বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার মার্জিন বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য তা বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ১০০ টাকা ইক্যুইটি থাকলে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

নতুন নিয়মে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে ট্রেইলিং পিই রেশিও ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো শেয়ারের বর্তমান বাজারদরকে আগের ১২ মাসে কোম্পানিটির অর্জিত শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের সঙ্গে তুলনা করে পিই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। কোম্পানি নতুন ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে পিই রেশিও হালনাগাদ করতে হবে।

মার্জিন কল ও ফোর্স সেলের সীমা নিয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় আগের প্রস্তাব থেকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রাথমিক খসড়ায় পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৭০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন কল এবং ৫০ শতাংশের নিচে নামলে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছিল। চূড়ান্ত খসড়ায় সেই সীমা কমিয়ে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এর ফলে কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে প্রথমে তাঁকে সতর্ক করা হবে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হয়ে ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আর নতুন করে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করবে না; সরাসরি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।

মার্জিন ঋণের আওতাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারে এ ঋণ পাওয়া যাবে না। এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও এর বাইরে থাকবে। কেবল স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে।

বিএসইসির এই সংশোধনের ফলে একদিকে মার্জিন ঋণ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারের পরিধি বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত ইক্যুইটি না থাকলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির ক্ষমতা স্পষ্ট করা হলো।