চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ছয় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মানববন্ধন প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মতিঝিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। ‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শিরোনামে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে চাকরিচ্যুতরা তাদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগও দাবি করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযোগ করে বলেন, বলেন, আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির না করার অপরাধে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত-শিবির সমর্থক হলে আজ আমাদের এই দুরবস্থায় পড়তে হতো না। শুধুমাত্র দলীয় ব্যানার না থাকায় যদি আমাদের চাকরিচ্যুত হতে হয়, সেটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপকভাবে বদলি, প্রশাসনিক হয়রানি, আইডি নিষ্ক্রিয় করা এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনার ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা বহু পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। সমাবেশ থেকে বক্তারা তিন দফা দাবি পেশ করেন। এক. অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মীকে স্বপদে বহাল করতে হবে। দুই. বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। তিন. ভবিষ্যতে যেন কোনো পেশাজীবী এভাবে বৈষম্যের শিকার না হন, তার আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত করা তিনটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায, যাদের সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে ও যারা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছিলেন, শুধু তাদেরই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ফলে তাদের ফেরানোর কোনো সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, এই ছয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কাছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কারণে এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালকেরা। SHARES অর্থনীতি বিষয়: