অজিত চন্দ্র আইচের নিয়োগে আপত্তি কেন—অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নাকি ভিত্তিহীন অভিযোগ? যমুনা লাইফে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও স্থায়ী নিয়োগে অনিশ্চয়তা, আইডিআরএর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ শেখ মনিরুল ইসলাম, সহ সম্পাদক, ব্যাংক বিমা অর্থ নিউজ: দীর্ঘ প্রায় চার দশকের বীমা পেশার অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং সর্বশেষ যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরও অজিত চন্দ্র আইচকে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানানো হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—এসব অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত দায় কতটুকু যাচাই করা হয়েছে এবং একজন দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন ছাড়া কি তার পেশাগত ভবিষ্যৎ আটকে রাখা সমীচীন? সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ অজিত চন্দ্র আইচকে এমডি হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। নিয়োগের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এদিকে অজিত চন্দ্র আইচের দীর্ঘ কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর জাতীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বীমা পেশায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অজিত চন্দ্র আইচের দাবি, ২০২০ সালে তিনি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অন্য একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তার অনুপস্থিতিতে তার নামে প্রায় দুই কোটি পচিঁশ লক্ষ্য টাকার একটি চেক ইস্যু ও জমা দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন বা অভিযোগ তৈরি হয়েছে, সেটির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি তখন ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থেকে থাকে, তাহলে তার প্রশ্ন—ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে না থাকলে সেই ঘটনার দায় তার ওপর বর্তাবে কীভাবে? এখানেই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন। ৪০ বছরের পেশাজীবনে হঠাৎ প্রশ্নবিদ্ধ কেন? অজিত চন্দ্র আইচের ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার পর কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ বা নেতিবাচক প্রচারণা তাকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন পেশাজীবীর দীর্ঘ কর্মজীবনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তা হবে অন্যায়। তার প্রশ্ন, “প্রায় চার দশক বীমা পেশায় কাজ করার পর শেষ বয়সে এসে আমার বিরুদ্ধে কেন এমন বদনাম ছড়ানো হচ্ছে?” তিনি আরও দাবি করেন, তাকে নিয়ে যারা মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। যমুনা লাইফের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন অজিত চন্দ্র আইচ বর্তমানে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে অ্যাডিশনাল এমডি এবং ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও ডিজিটাল জীবন বীমা কোম্পানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তিনি প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন। এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রেখে স্থায়ী এমডি নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের মনোবল এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ওপর পড়তে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন উঠছে—যদি অজিত চন্দ্র আইচের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনগত বা নিয়ন্ত্রক আপত্তি থাকে, তাহলে তা স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে না কেন? আর যদি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি না থাকে, তাহলে তার নিয়োগের পথে বাধা কোথায়? নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে স্বচ্ছতার দাবি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রার্থীর নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান বিবেচনা করা স্বাভাবিক। একইভাবে কোনো অভিযোগ থাকলে তার সত্যতা যাচাই করাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বের অংশ। তাই অজিত চন্দ্র আইচের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার অবসানে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা। একজন পেশাজীবী দোষী হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি কোনো ব্যক্তির দীর্ঘ কর্মজীবন ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটিও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে। অজিত চন্দ্র আইচের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভিযোগ নয়, প্রমাণ; গুঞ্জন নয়, তদন্ত; ব্যক্তিগত প্রচারণা নয়, আইন ও বিধিবিধান। প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞ এই বিমাবিদের নিয়োগের বিষয়ে তাই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা একটাই—কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাব নয়, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নথিপত্র ও আইনের ভিত্তিতে একটি স্পষ্ট ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত। কারণ একজন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় যেন কোনো অপ্রমাণিত অভিযোগের ভারে অন্ধকার হয়ে না যায়—এ দায় শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নয়; এটি পুরো বীমা খাতের পেশাগত ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্ন। News PhotoCard SHARES অর্থ নিউজ বিষয়: