আইপিডিসির খেলাপি ঋণ ৪৪৫ কোটি টাকা প্রকাশিত: ১২:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল ঋণ ব্যবসা থেকে আয় কমেছে এবং ঋণ অবলোপনের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। আইপিডিসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আইপিডিসির খেলাপি ঋণ ছিল ৪০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৪৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে। এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। কৃষি খাতেও খেলাপি ঋণের হার ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। খেলাপি ঋণের পাশাপাশি ঋণ অবলোপনের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ অবলোপন করেছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ অবলোপন বেড়েছে ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ। আইপিডিসির নিট সুদ আয় ২০২৪ সালের ২৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে ২০২৫ সালে কমে হয়েছে ২০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মূল ঋণ ব্যবসা থেকে আয় কমেছে ৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে আমানতকারীদের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে ৯৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর ফলে নিট মুনাফা ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে ২৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা হয়েছে। আইপিডিসির নিরীক্ষক ডিলয়েটের নুরুল ফারুক হাসান অ্যান্ড কোং ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন নির্ধারণকে ‘কি অডিট ম্যাটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিরীক্ষকেরা বলেছেন, ঋণ শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নিজস্ব বিচারবোধের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে শ্রেণীকরণ করা ঋণ প্রকৃত ঝুঁকির পুরোপুরি প্রতিফলন না-ও করতে পারে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। তবে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম ১০ শতাংশের ওপরে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদে আইপিডিসির সম্পদ ও দায়ের মধ্যে নেতিবাচক ব্যবধান রয়েছে ১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। বার্ষিক প্রতিবেদনেও কিছু তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ব্যয় এক জায়গায় ৪৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অন্য জায়গায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। শাখার সংখ্যাও কোথাও ১৭টি, কোথাও ১৮টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ ঢাকা বিভাগে বিতরণ করা হয়েছে। একই বছরে ১৩ শতাংশ দক্ষ কর্মী চাকরি ছেড়ে গেছেন। পাঁচ বছরের নিট মুনাফার যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বা সিএজিআর ঋণাত্মক ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: