ফেক আইডির বক্তব্যে নতুন মোড়, নরোত্তমপুরে শুরু তুমুল আলোচনা

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন পলাশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি ফেক আইডি থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত বকশি মিঞার কবরের ওপর ভবন নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আজিম মিঞা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোহাম্মদ আজিম মিঞার দাবি, কবরের ওপর ভবন নির্মাণের ঘটনায় জামাল উদ্দিন ওরফে “সুদি খোকন”-এর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাকে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা শুরু হয়। তার অভিযোগ, ফেক আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করে তার ব্যক্তি ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী “প্রতিবাদী কণ্ঠ” সংগঠনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এদিকে মৃত ব্যক্তির নামে ফেক আইডি ব্যবহার করে ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখে অপপ্রচার চালানো সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার আনোয়ার হোসেন পলাশের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্য উদঘাটিত হয় এবং তথ্য-প্রমাণই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে। তবে এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন পলাশ বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।