ডুপ্লিকেট সার্ভার বন্ধে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা, দুর্নীতিতে ‘নো-টলারেন্স’ আইডিআরএ’র প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬ নুরনবী সোহেল: দেশের বীমা খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবহৃত ডুপ্লিকেট সার্ভার বন্ধে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘নো-টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ অন্যতম। এছাড়া আর্থিক লেনদেনে অভিন্ন পদ্ধতি চালু, নির্ধারিত সময়ে সিইও নিয়োগে ব্যর্থ কোম্পানির জন্য ‘সিইও পুল’ গঠন এবং গ্রাহকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) আইডিআরএ কার্যালয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ‘বীমা খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইডিআরএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। সভায় বিআইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী সাখাওয়াত হোসেন (লিন্টু), বিআইএফ’র প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলীসহ উভয় সংগঠনের নেতারা বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংস্কারের বিষয়ে মতামত দেন। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ডুপ্লিকেট সার্ভার বন্ধে ৬ সপ্তাহ আইডিআরএ’র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু বীমা কোম্পানি একাধিক সার্ভার ব্যবহার করছে। ফলে কর্তৃপক্ষকে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এবং বীমা খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি বীমা কোম্পানিকে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের ডুপ্লিকেট সার্ভার ব্যবহার বন্ধ করে একটি অভিন্ন সার্ভারে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কোম্পানির একাধিক সার্ভার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুর্নীতিতে ‘নো-টলারেন্স’ বীমা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। আইডিআরএ’র কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি বা গ্রহণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে কোনো বীমা কোম্পানি আইডিআরএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সেটিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক লেনদেনে আসছে অভিন্ন পদ্ধতি বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক লেনদেন ও চেকে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এ সমস্যা দূর করতে বিআইএ ও বিআইএফ’র সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও চেক স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে একটি সর্বসম্মত পদ্ধতি নির্ধারণ করে আইডিআরএ’র কাছে সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে। সিইও নিয়োগে ‘সিইও পুল’ বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকার বিষয়েও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো কোম্পানির সিইও পদ শূন্য হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত সিইও নিয়োগে ব্যর্থ হলে আইডিআরএ যোগ্য প্রার্থীদের সমন্বয়ে একটি ‘সিইও পুল’ গঠন করবে। সেখান থেকে কর্তৃপক্ষ নির্বাচিত দুইজন যোগ্য প্রার্থীর তথ্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে পাঠাবে। এরপর পরিচালনা পর্ষদ ওই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগের জন্য আইডিআরএ’র কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব সভায় বীমা গ্রাহকদের দাবি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দাবি নিষ্পত্তির হার বাড়াতে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে আগে দেওয়া নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানিগুলোকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আইডিআরএ’র এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বীমা কোম্পানির তথ্য ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। News PhotoCard SHARES অর্থ নিউজ বিষয়: