আমরা টেকনোলজিসের আইআইজি লাইসেন্স বাতিলের পথে প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা টেকনোলজিস লিমিটেডের ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের পাওনা পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির ৩০৯তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। লাইসেন্স বাতিলের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলে আমরা টেকনোলজিসের আইআইজি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, রেভিনিউ শেয়ারিং, লাইসেন্স ফি, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও বিলম্ব ফি বাবদ আমরা টেকনোলজিসের কাছে কমিশনের পাওনা ২৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৮ হাজার ৭২১ টাকা। দীর্ঘদিন এই পাওনা পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইথ কয়েক দফায় সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইথে শতভাগ ক্যাপিং রয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বকেয়ার কারণে আমরা টেকনোলজিসের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতার ৫০ শতাংশ ব্লক করে বিটিআরসি। পরে ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করলে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে ২০২৩ সালের শেষে ব্যান্ডউইথের ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের শুরুর দিকে শতভাগ ক্যাপিং করা হয়। কিস্তির পর কিস্তি বিটিআরসি সূত্র বলছে, পাওনা আদায়ে কমিশন উদ্যোগ নিলেই আমরা টেকনোলজিস কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ চাইত। কিস্তির সুযোগ পাওয়ার পর আবার কিস্তির সংখ্যা বাড়ানোর আবেদন করত প্রতিষ্ঠানটি। পরে বিলম্ব ফি মওকুফেরও আবেদন করা হতো। অতীতে কিস্তিতে পাওনা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি সেই শর্ত যথাযথভাবে পালন করেনি। এ কারণে বকেয়া পরিশোধ না করাকে আইআইজি গাইডলাইনের ৮.০২ এবং লাইসেন্সের ৪.০২ শর্তের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে বিটিআরসি। পরে লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাবে গত জুনে বকেয়া পরিশোধের একটি প্রস্তাব দেয় আমরা টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের মোট বকেয়া ছিল ২৫ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত বকেয়া ১২ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫২৭ টাকা। আর ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৩ টাকা বিলম্ব ফি ও জরিমানা। প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বকেয়ার ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৬০ লাখ ৫ হাজার ৯২৬ টাকা ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করে অবশিষ্ট অর্থ ৪৮টি সমান মাসিক কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ডউইথের শতভাগ ক্যাপিং তুলে নিয়ে আইআইজি কার্যক্রম চালুর সুযোগ চায় তারা। ব্যবসা পুনরায় চালুর পর প্রথম কিস্তি শুরুর আগে তিন মাস সময় দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়। তবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বিটিআরসি। কমিশনের মতে, প্রস্তাবে তাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার ছিল না। অতীতে কিস্তি পরিশোধের শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৪৮ মাসের কিস্তি ও দীর্ঘ গ্রেস পিরিয়ডের প্রস্তাবকেও বাস্তবসম্মত মনে করেনি কমিশন। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আইআইজি লাইসেন্সের মেয়াদও আগামী আট মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির প্রস্তাব এবং কমিশনের পুরো পাওনা পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা টেকনোলজিসের জবাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি বিটিআরসি। আইআইজি কার্যক্রম বন্ধ বর্তমানে শতভাগ ব্যান্ডউইথ ক্যাপিংয়ের কারণে আমরা টেকনোলজিসের আইআইজি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বহাল রাখারও কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না বিটিআরসি। কমিশন সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা, একাধিকবার কিস্তির সুবিধা নিয়েও তা পরিশোধ না করা এবং আইআইজি গাইডলাইন ও লাইসেন্সের সংশ্লিষ্ট শর্ত লঙ্ঘনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসির পাওনা ২৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৮ হাজার ৭২১ টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কমিশনের অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: