জাফর উল্লাহ ও পরিবারের ১৫৫ কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করতে দুদকের আবেদন প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা এসব অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদগুলো অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দুদকের নথিতে কাজী জাফর উল্লাহ, তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা অর্থের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাবের অর্থকে মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। নথি অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্লাহর নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্লাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা। তাঁর ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা। আরেক ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মেয়ে কাজী আফসকা মেহেরিন জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫ টাকা রয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সব হিসাব মিলিয়ে কাজী জাফর উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ ১৫৫ কোটি টাকার বেশি। দুদকের নথিতে এগুলোকে অবৈধ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালতে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার আগে এসব সম্পদকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এর আগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কাজী জাফর উল্লাহসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওই মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দুদকের আরেক মামলায় চলতি বছরের মার্চে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাজী জাফর উল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। এখন তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল অর্থ অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের অর্থ হস্তান্তর বা উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পদগুলো নিরাপদে রাখার সুযোগ পাবে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা। দুদকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো তদন্তাধীন সম্পদ যাতে সরিয়ে ফেলা, হস্তান্তর কিংবা অন্য কোনোভাবে বেহাত করা না যায় তা নিশ্চিত করা। পরবর্তী সময়ে তদন্তে এসব অর্থের উৎস ও বৈধতা সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: