সংকট কাটাতে আইসিবির ১০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬

পুঁজিবাজারের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও ঋণের সুদের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। সংকট কাটাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় এ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ১০ হাজার কোটি টাকা কম সুদের অর্থায়ন নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আইসিবির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনাটি তুলে ধরার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আইসিবির আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সঞ্চিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১ হাজার ২১৩ কোটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৫৮৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

আইসিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বারবার ঋণ নিয়েছে আইসিবি। এতে ঋণের সুদ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারের অস্থিরতায় মূলধনি মুনাফা, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় কমেছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে আইসিবির ব্যাংকঋণ ছিল ২ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। একই সময়ে বার্ষিক সুদ পরিশোধ ১৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা হয়েছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে আইসিবির বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে অবাস্তবায়িত লোকসান ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। তখন পোর্টফোলিওর মূল্য ছিল প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকা উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে এবং ৩ হাজার কোটি টাকা দ্বিতীয় বাজারে বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যে সরকার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা কম সুদের অর্থায়ন পেয়েছে আইসিবি। এর একটি অংশ দিয়ে ঋণ পরিশোধ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

মধ্যমেয়াদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের একাংশ ইকুইটিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঋণদাতাদের জন্য ফিক্সড-ইয়েল্ড প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনে রূপান্তর করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
দীর্ঘমেয়াদে আয়ের উৎস বহুমুখী করা, কার্যক্রম ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আইসিবির।