বীমা সেক্টরকে জিম্মি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৪

বীমা সেক্টরকে জিম্মি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় ব্যর্থ কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে এক দফা দাবিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ফলে দেশ এখন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূস এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। সত্য ন্যায় সাম্যতা ন্যায্যতা গনতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের ছাত্র ও আপামর জনতা যে কোরবানি দিয়েছেন তার বদৌলতে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে বিভিন্ন সেক্টরে অপশাসনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের পদত্যাগ বা অব্যাহতির সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় বাংলাদেশের বীমা সেক্টরের কিছু দুর্নীতিবাজ মালিকপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ যারা সাধারণ গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে, স্বৈরশাসকের নেতা ও আমলাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে খুশি করাতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দেশে বিদেশে আনন্দ ফুর্তি করিয়েছেন, বিভিন্ন উপটৌকন দিয়ে রঙ্গলিলায় মাতিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে বড় নেতা সেজে সিন্ডিকেট করে ডন বনে গেছেন, তারাই কিনা আজ নিজের সকল অপকর্ম ও দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য নিমিষেই খোলস চেঞ্জ করে দরবেশ সেজেছেন এবং দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কিছু ভূইঁফোর সংগঠন এর নামে কিছু ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তারা কি জানেন ১৯৯১ সালে ততকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত মেধাবী অফিসার, জাতীয় সম্পদ মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে নিয়ে নানা অপপ্রচার ও কুৎসা রটাচ্ছেন। সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব জনাব মোহাম্মদ জয়নুল বারী ১৬ জুন ২০২২ তারিখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেছেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই বীমা সেক্টরকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রণীত বীমা আইন ২০১০ এর যথাযথ প্রয়োগের ফলে অনেক বীমা দস্যু, দুর্নীতিবাজ, মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ তছরুপের হোতা প্রমাণিত হয়ে মহা মুশকিলে পড়েছেন।

বীমা উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে জয়নুল বারী দায়িত্ব গ্রহণের পরে বীমা আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বীমা তার প্রকৃত রূপে ফিরে যাচ্ছে। জয়নুল বারী সম্প্রতি বীমার অন্যায় ও লুটপাটকারীদের টুঁটি চেপে ধরেছেন কারন তিনি বিগত ১৫টি বছর ধরে এই সেক্টরে যে পরিমাণ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, দলীয়করণ হয়েছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আইডিআর এর ঊর্ধ্বতন দাপ্তরিক কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানকে জিম্মি করে অনেক কিছুই আদায় করে নিয়েছেন, অবরুদ্ধ করে পুলিশের ন্যায় ব্যবহারও করেছেন।

সরকারের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে সেই স্বার্থন্বেষী মহল বুঝে গেছেন তাদের আসল চেহারা অচিরেই উন্মোচিত হবে, তাই ভেবে তারা আজ এই কুৎসা রটাচ্ছেন । এখন আর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়াদের ইশারায় চলবে না, তা বুঝতে পেরে কোম্পানির দুর্নীতিকারী মালিকদের ছত্রছায়ায় কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে হইহুল্য করে স্বার্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এটা আয়নার মতো পরিষ্কার।

তাই এখন বিমা সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিবর্গই যে কোন ধরনের অন্যায় দুর্নীতি করার আগে অন্তত ১০ বার ভাবতে হচ্ছে। উল্লেখ্য সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কোম্পানির পর্ষদ দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী পন্থী সিইওদের অসততার মাধ্যমে পেইড আপ ক্যাপিটাল এর টাকা ও সম্পদ বেঁচা কেনার মাধ্যমে শতশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন যা প্রমাণিত হয়েছে ডকুমেন্ট সহকারে। ঐ সকল কোম্পানির বিরুদ্ধে বীমা আইন ২০১০ এর আলোকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে অনেককে বহিষ্কারও করেছেন।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আপামর জনতাকে বীমা সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে বীমা আইন ২০১০ এর অনেক ধারার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্ধন ও পরিবর্তন করে বীমা সেক্টরটাকে একটি শৃঙ্খলার ভিতরে ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার পরিষদ বীমা সেক্টরের আসল সৌন্দর্য মানুষের দোঁড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অবৈধ সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থী কিছু অসৎ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন আইডিআরএতে তাদেরকেও চিহ্নিত করে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। কোন ধরনের পেশী শক্তির চোখ রাঙ্গানিতে জনাব মোহাম্মদ জয়নুল বারী বীমা আইন ২০১০ এর যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক চুল পরিমাণ পিছ পা হননি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুযোগ সন্ধানী দুর্নীতি পরায়ন ও দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তিবর্গ নামে বেনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন পোর্টালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। বীমাখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা মনে করছেন সততা, মেধা ও যোগ্যতার মানদন্ডে ইস্পাত কঠিন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে কোন অপশক্তি নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। কারণ সত্য ন্যয় সততা ও ইনসাফ কখনো হারেনি, হারবেনা এবং হারতে পারে না। বীমা সংশ্লিষ্ট যে সকল বীমা দস্যু ও অর্থ আত্মসাৎকারী রয়েছে তাদের কারো রক্ষা হবে না এই সেক্টরে।

সুতরাং সংশ্লিষ্ট সকল সচেতন মহল কে দুষ্কৃতিকারী ও গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎকারী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের কোন ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শীঘ্রই আইডিআরএ এর চেয়ারম্যান সকল কোম্পানির গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় লক্ষ লক্ষ পলিসির মেচুরিটির টাকা যথাসময়ে প্রদান না করে তিনাকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যারা কোম্পানি পরিচালনা করেছেন বা অপকর্ম করতে সহযোগিতা করেছেন তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।