প্রগ্রেসিভ লাইফ লুটপাটে ধ্বংস, সম্পদ বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার পাশাপাশি চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ধ্বংসের মুখে পড়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। চেয়ারম্যানের পদ আঁকড়ে থাকা, শীর্ষ নির্বাহীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তি (জমি, ফ্লোর ও ভবন) বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। সব মিলিয়ে গভীর সংকটে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির স্থবিরতা, আর্থিক দুর্নীতি ও সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকরা। একই সঙ্গে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছেও এই অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাঠানো এই আবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য ও গুরুতর অনিয়মের চিত্র। আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন কোম্পানির স্পন্সর পরিচালক—নাসির আলী শাহ, চৌধুরী ফারকান্দাহ শাহ, আব্দুল মালিক, কামাল মিয়া এবং এম. এ. করিম।

সুশাসনের অভাবে ধুঁকছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আইন ভঙ্গ করে পর্ষদ পুনর্গঠন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্বাধীন পরিচালক পদে বসিয়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। স্পন্সর পরিচালকদের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করছেন না। এছাড়া তাঁর ঢাকা-লন্ডন যাতায়াতের বিমান টিকিট ও ভ্রমণ খরচ এবং প্রতিদিনের বিপুল আপ্যায়ন ব্যয় কোম্পানির তহবিল থেকে নেওয়া হচ্ছে। লিগ্যাল ও উন্নয়ন খাতের নামে অতিরিক্ত ব্যয়, বিশেষ করে আইনি খরচের জন্য ২০ লাখ টাকা তোলার বিষয়টি কোম্পানির স্বার্থের পরিপন্থী ও সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ প্রগ্রেসিভ লাইফ। লুটপাট ও অর্থ সংকটে দুই দশকেরও বেশি সময়ে চলা প্রতিষ্ঠানটি এখন গভীর খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যেখানে কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ৭০১.৮৮ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তা কমে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় নেমে এসেছে। এছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোম্পানি প্রায় ২২৯.১৯ কোটি টাকা ঋণাত্মক পরিচালন নগদ প্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। মূলত কোম্পানির মূল ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত কোনো নগদ অর্থ আসছে না, যা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং চরম অব্যবস্থাপনার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং বিনিয়োগের তহবিল যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করার ফলে পলিসিহোল্ডারদের টাকা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে গ্রাহকদের বীমা দাবি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেনা। হুদা ভাসী চৌধুরী অ্যান্ড কোং-এর ম্যানেজমেন্ট অডিট রিপোর্টের পর্যবেক্ষণেও প্রগ্রেসিভের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।

আরো পড়ুন: