বীমা কোম্পানি: লভ্যাংশে উদার, দাবি নিষ্পত্তিতে অনীহা প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিনিধি : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে এসব কোম্পানির অনেক গ্রাহক তাদের বীমা দাবির টাকা পাচ্ছেন না। মেয়াদপূর্তির পর টাকা ফেরত পেতে দিনের পর দিন কোম্পানির কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে বীমা খাতে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের জীবনবীমা কোম্পানিগুলোর কাছে গ্রাহকদের মোট পাওনা ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনো প্রায় ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা অপরিশোধিত রয়েছে। অর্থাৎ মোট দাবির প্রায় ৬৫ শতাংশ এখনো পরিশোধ হয়নি। এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি জীবনবীমা কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির কাছে গ্রাহকদের বকেয়া দাবির পরিমাণ ১২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে গ্রাহকদের পাওনা ৫৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পপুলার ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিলেও তাদের কাছে বকেয়া রয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা লাইফের কাছে গ্রাহকদের পাওনা ৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর প্রগ্রেসিভ লাইফের কাছে বকেয়া দাবির পরিমাণ ১৫৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া বীমা দাবি শূন্যে নামিয়ে এনেছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেছে কোম্পানিটি। বীমা ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো বিপদের সময় বা পলিসির মেয়াদ শেষে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা। কিন্তু দীর্ঘদিন দাবি আটকে থাকায় বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, গ্রাহকের দাবি পরিশোধকে অগ্রাধিকার না দিলে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে। বীমা খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রাহকের দাবি পরিশোধ ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, গ্রাহকের পাওনা সময়মতো পরিশোধ না হলে তা পুরো খাতের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির দাবি পরিশোধের সক্ষমতা ও বকেয়া দাবির বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: