মে মাসে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা কয়েক মাস ধরে বাড়ছিল ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত। তবে মে মাসে সেই ধারা ভেঙেছে। এক মাসের ব্যবধানে দেশের ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাবেই গ্রাহকদের একটি অংশ আমানত তুলে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। মে মাস শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসেই আমানত কমেছে ২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। তবে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও ইসলামি উইন্ডো মিলিয়ে সার্বিক ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আমানত তুলনামূলক কম কমেছে। এপ্রিল শেষে এ খাতে মোট আমানত ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। মে মাস শেষে তা কমে হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সার্বিকভাবে আমানত কমেছে ৭৫৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও উইন্ডোতে আমানত বাড়ায় পতনের প্রভাব কিছুটা কমেছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে ইসলামি ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় এপ্রিল পর্যন্ত আমানতও বাড়ছিল। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে মে মাসে সেই ধারা ব্যাহত হয়। তাদের মতে, ওই নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে অনেকেই সতর্কতামূলকভাবে আমানত তুলে নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী আয় বেড়েছে। এপ্রিলে এ খাতের ব্যাংক, শাখা ও উইন্ডোর মাধ্যমে দেশে ৬২ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। মে মাসে তা বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি বিল পরিশোধ কমেছে। এপ্রিলে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২৩ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করা হলেও মে মাসে তা কমে ৮৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। রপ্তানি আয়ও কমেছে। এপ্রিলে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭১ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এলেও মে মাসে তা কমে ৫৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। News PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: