১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল

প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষতিগ্রস্ত বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ও গ্রুপকে ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ ২ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার জারি করা হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অনুযায়ী নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন আবেদন করা যাবে।

এ ছাড়া ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা নেওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করা ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিলের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ বছর গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মে নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় বাড়ানো যাবে।

তবে কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই প্রযোজ্য হবে।

আগে থেকেই বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অথবা বাছাই কমিটির আওতায় নীতি সহায়তা নেওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন সুবিধা পাবেন। তবে আগে যে সময় গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পার হয়েছে, তা নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত মেয়াদও বাড়ানো যাবে।

নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত (STD-0, STD-1, STD-2 ও SMA) ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আনা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে SS, DF ও B/L হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণও বিশেষ পুনর্গঠনের সুবিধা পাবে।

সার্কুলারের আওতায় করা সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে নিষ্পত্তি করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনায় আগের সার্কুলার ও এর আওতায় জারি করা অন্যান্য নির্দেশনার যেসব বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।