নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতায় বীমা খাতে আস্থার সংকট: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

নূরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের বীমা খাতে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বীমা খাতে ন্যায্যতা ও গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার হলেও দীর্ঘদিন সেই ভূমিকা পালন করা হয়নি। ফলে এই খাতে জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বীমা খাতের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ।

সভাপতিত্ব করেন আইআরএফের সভাপতি গোলাম মাওলা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি মনির হোসেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে শক্তিশালী ও আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি মনে করেন, বীমা খাতে বর্তমানে ন্যায্যতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

সেমিনারে কৃষি ও স্বাস্থ্য বীমার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে কৃষি বীমার প্রসার অত্যন্ত সীমিত। বীমা কোম্পানিগুলো কৃষি বীমাকে লাভজনক মনে না করলে কৃষকদের ঝুঁকি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বর্তমান বাস্তবতায় এটি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

বীমা খাতের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে ড. তিতুমীর বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় বীমার আওতা এখনো খুবই নগণ্য। খাতের উন্নয়নে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে স্বাস্থ্য বীমা মূলত উচ্চবিত্ত ও নির্দিষ্ট কিছু চাকরিজীবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। একে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। এতে যেমন গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত হবে, তেমনি বীমা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় ও অপচয় কমে আসবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও অধিকার রক্ষার প্রধান দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় বীমা খাতে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।’ তিনি বীমা কোম্পানিগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অডিটর, সার্ভেয়ার ও ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির মতো বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ও দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর আরও বলেন, আর্থিক খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ মানুষের মনে অনাস্থা তৈরি করেছে। তবে তিনি ‘অতিনিয়ন্ত্রণ’ বা ‘ওভার-রেগুলেশন’ এড়িয়ে বাজারভিত্তিক তদারকির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব‌্যে বিআইএ সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি) বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে। তিনি মোটরগাড়ি বীমাকে বাধ্যতামূলকভাবে বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন এবং নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বীমাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই তিন স্তম্ভকে সামনে রেখে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সংস্থার চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেছেন, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন বীমা দাবি নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনার পরও প্রয়োজন হলে সরকারের কাছে এককালীন (ওয়ান-টাইম) ‘বেইলআউট’ প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহ ধরে তিনি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। তিনি কেবল সমস্যায় নয়, বরং সমাধানভিত্তিক সংস্কারে বিশ্বাসী। সেই লক্ষ্যেই একটি সংস্কার কাঠামো (রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করা হয়েছে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের সংস্কারের প্রথম স্তম্ভ হলো পলিসিধারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। দ্বিতীয় স্তম্ভ বীমাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি (লং-টার্ম ইনভেস্টমেন্ট ক্লাস) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং তৃতীয় স্তম্ভ হলো খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যাতে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই বীমা শিল্প গড়ে ওঠে।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বীমা খাতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা—উভয় ধরনের কোম্পানির দাবি রয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি কোম্পানির সঙ্গে আলাদাভাবে বসে তাদের আর্থিক ও পরিচালনাগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। কোথাও সম্পদ বিক্রি, কোথাও আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার কিংবা অন্য কোনো উপায়ে দাবি পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা গেলে আইডিআরএ তা সমন্বয় করবে।

সব উদ্যোগের পরও যদি বড় অঙ্কের দায় অবশিষ্ট থাকে, তবেই এককালীন বেইলআউট প্যাকেজের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সরকারের কাছে যাওয়ার আগে বীমা কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিজেদের হোমওয়ার্ক শেষ করতে হবে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট আর তৈরি হবে না। এজন্য কোম্পানিগুলোকে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে।’

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে বড় হচ্ছে, তাতে একটি শক্তিশালী বীমা খাত অপরিহার্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বীমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশেও বীমা খাত শক্তিশালী হলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বীমার ভূমিকা বাড়ানো, ক্ষুদ্রবীমা (মাইক্রোইনস্যুরেন্স) ও তাকাফুল (ইসলামি বীমা) খাতের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বীমা শিক্ষা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিআইএফ সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, দেশে এমন কিছু বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লেইম নিষ্পত্তি করে থাকে। তবে এসব ইতিবাচক দিক তেমনভাবে আলোচনায় আসে না। তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে ক্লেইম প্রদান করা হয় না বা বিলম্ব হয়, সেগুলোই বেশি আলোচিত ও সমালোচিত হয়। ফলে বীমা খাতের ভালো কাজগুলোও জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি এখনো অবহেলিত। বীমা প্রবেশযোগ্যতা খুবই কম, যা দ্রুত বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, স্বল্পমেয়াদি লাভের চিন্তা এবং টেকসই পরিকল্পনার অভাব এ খাতের প্রধান সমস্যা। জলবায়ু ঝুঁকি ও কৃষি খাতে বীমার ভূমিকা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও যোগ করেন, আর্থিক খাতে নৈতিক ঝুঁকি ও সুশাসনের ঘাটতি দূর করতে না পারলে বীমা খাতও শক্তিশালী হবে না।

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমেদ (পাভেল) বলেন, নন-লাইফ বীমা খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো রিইন্স্যুরেন্স কমিশন ও ভ্যাট-সংক্রান্ত জটিলতা। এ দুটি বিষয় আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই খাতটির উন্নয়নে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে একসঙ্গে ১৩টি বীমা কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং ধাপে ধাপে লাইসেন্স দেওয়া হলে তা অধিক যৌক্তিক হতো। সে সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং কোম্পানিগুলোর সক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়নও হয়নি।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, লাইফ বীমা খাতে সমস্যার মাত্রা নন-লাইফ বীমার তুলনায় বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে জটিলতা রয়েছে। ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করলে সংকট কমবে বলে তিনি মত দেন

মূল প্রবন্ধে সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন বলেন, অর্থনীতির আকারে বিশ্বের ৩৫তম হলেও বীমা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম, যা খাতটির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারারই প্রতিফলন।

মূল প্রবন্ধে তিনি জাতীয় বীমা নীতির বাস্তবায়ন, আইডিআরের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার মানের ভিত্তিতে বীমা কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণের সুপারিশ করেন।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গণমাধ্যম, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বীমা খাতের উন্নয়নে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সেমিনারের বক্তারা একমত হন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন, পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিদুজ্জামান, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ জামাল হাওলাদার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শহিদুল্লাহসহ বীমা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও সাংবাদিকরা।