বাধ্যতামূলক ডিলিস্টিংয়ের বিধান আনতে প্রস্তাব ডিএসইর প্রকাশিত: ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের পর বছর উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ, নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়া, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অবস্থায় রয়েছে বহু কোম্পানি। এতে বাজারে জল্পনাভিত্তিক লেনদেন ও কারসাজির সুযোগ বাড়ছে, ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ ও অকার্যকর কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক তালিকাচ্যুতির (ডিলিস্টিং) বিধান চালু করতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ জন্য বিদ্যমান লিস্টিং রেগুলেশন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ডিএসই। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী, টানা পাঁচ বছর কোনো লভ্যাংশ (নগদ বা স্টক) ঘোষণা না করা, টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, স্বেচ্ছায় বা আদালতের আদেশে অবসায়নে যাওয়া, টানা তিন বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন বা কার্যক্রম বন্ধ থাকা, তালিকাভুক্তি ফি বা অন্য কোনো পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া এবং এই প্রবিধান বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করতে পারে। তবে ডিএসইর মতে, বিদ্যমান বিধানে তালিকাচ্যুতি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। এর সুযোগে বহু অকার্যকর কোম্পানি বছরের পর বছর মূল বোর্ডে থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্য ওঠানামা ও জল্পনাভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সময়সীমা নির্ধারণ করে বাধ্যতামূলক তালিকাচ্যুতির বিধান যুক্ত করতে চায় ডিএসই। তবে কোনো কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাচ্যুত করা হবে না। প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর শুনানির সুযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তালিকাচ্যুতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে। সংশোধনী প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়া, ঋণাত্মক নিট সম্পদ, ন্যূনতম ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বা মূলধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের কারণেও কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা যাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তালিকাচ্যুতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কতদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিএসই বলছে, উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণও বিবেচনায় নেওয়া হবে। গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হবে। আর স্পন্সর পরিচালক বা পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম কিংবা প্রতারণার কারণে প্রতিষ্ঠান অচল হলে তা ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে কোম্পানিগুলোর জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি যদি দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা (রিহ্যাবিলিটেশন প্ল্যান) উপস্থাপন করে এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তত্ত্বাবধানে তা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বাধ্যতামূলক তালিকাচ্যুতি থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: